
১৯৭১ সালের মার্চে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা এবং পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার খবর দ্রুতই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে উঠে আসে। বিভিন্ন দেশের সংবাদপত্র, রেডিও ও বার্তা সংস্থাগুলোতে পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতি এবং বাঙালিদের স্বাধীনতার আন্দোলন নিয়ে ব্যাপক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেই সময়ের বিশ্বমাধ্যমে বারবার উঠে আসে বাঙালির নেতা শেখ মুজিবুর রহমান–এর স্বাধীনতার ঘোষণা ও প্রতিরোধের আহ্বানের খবর।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, পূর্ব পাকিস্তানের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান একটি গোপন বেতার বার্তার মাধ্যমে জনগণকে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকা–এর খবরে বলা হয়, ঢাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সামরিক অভিযান শুরু করেছে এবং শেখ মুজিবুর রহমান একটি বার্তা পাঠিয়ে বিশ্বের কাছে সহায়তা কামনা করেছেন।
ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক দি স্টেটসম্যান তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, বাংলাদেশ স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে এবং শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের পূর্বাংশকে ‘বাংলাদেশ’ নামে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
ব্রিটিশ দৈনিক দি ডেইলি টেলিগ্রাফ–এ প্রকাশিত খবরে বলা হয়, শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট Yahya Khan বেতার ভাষণে তাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
আরেক ব্রিটিশ সংবাদপত্র দি গার্ডিয়ান–ও তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে যে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন।
আর্জেন্টিনার সংবাদপত্র বুয়েনস আয়ারস হেরাল্ড–এ শিরোনাম করা হয়, “Bengali Independence Declared by Mujib”।
মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস তাদের প্রতিবেদনে জানায়, স্বাধীনতা ঘোষণার পর শেখ মুজিবুর রহমানকে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ আটক করেছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা Associated Press–এর খবরে বলা হয়, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান পুনরায় সামরিক আইন জারি করেছেন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার পর পূর্ব পাকিস্তানে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, সহিংসতায় হাজারো মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে এবং স্বাধীনতা ঘোষণার পর শেখ মুজিবকে সম্ভবত আটক করা হয়েছে।
থাইল্যান্ডের সংবাদপত্র ব্যাংকক পোস্ট–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানকে ‘বাংলাদেশ’ নামে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করার পর পাকিস্তানে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এসব প্রতিবেদন থেকে স্পষ্ট হয় যে ১৯৭১ সালের মার্চেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা ও পাকিস্তানি বাহিনীর দমন–পীড়নের খবর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়ে ওঠে। এর মাধ্যমে বাঙালির স্বাধীনতার সংগ্রাম দ্রুতই বিশ্ববাসীর নজরে আসে এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্ব পেতে শুরু করে।
দেশপক্ষ/ এমএইচ








