ঢাকা, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২:০২ পূর্বাহ্ন

জ্বালানি ছাড়াও যে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে বাংলাদেশ

দেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় অর্ধেকেরই জোগান দেয় মধ্যপ্রাচ্য। চলমান বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে রেমিট্যান্স কমে দেশের রিজার্ভে চাপ বাড়াবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। তাই দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি এড়াতে এখনই নতুন শ্রমবাজার খোঁজার তাগিদ দিচ্ছেন তাঁরা।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়ছে। এতে অস্থিরতায় রয়েছেন প্রবাসীরা। নতুন করে ঝুঁকিতে পড়েছে দেশের শ্রমবাজার।

এক কোটি অভিবাসীর মধ্যে ৬০ লাখই থাকেন মধ্যপ্রাচ্যে। প্রবাসী আয়ের প্রায় অর্ধেক আসে এ অঞ্চল থেকে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের অনিশ্চয়তার মধ্যেও দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। মার্চ মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩৭৫ কোটি ডলারের বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এখনো মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব রেমিট্যান্সে পড়েনি। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, ‘রেমিট্যান্স প্রবাহটা স্বল্প মেয়াদে হয়তো আমরা অনেক বেশি পাব। এই যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তখন যদি আমাদের প্রবাসীদের ফিরে আসতে হয় বা নতুন করে যদি বিদেশে না পাঠাতে পারি অথবা আমরা যদি ডাইভার্সিফাই করতে না পারি, তখন কিন্তু প্রভাবটা নেতিবাচক হতে পারে।’

চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে অনেক প্রবাসী ভবিষ্যৎ সুরক্ষার কথা চিন্তা করে বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে নতুন শ্রমবাজার খোঁজার তাগিদ তাঁদের।

অর্থনীতি বিশ্লেষক মাজেদুল হক বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতকে কেন্দ্র করে সামনের দিনগুলোতে কিন্তু রেমিট্যান্সের প্রবাহ কমে যেতে পারে। আমাদের এই মুহূর্তে রাজনৈতিক সরকারকে যে সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করতে হবে তা হলো—মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক শ্রমবাজার থেকে সরে এসে ইউরোপভিত্তিক শ্রমবাজার তৈরি করতে হবে। দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানভিত্তিক শ্রমবাজার তৈরি করতে হবে।’

গত অর্থবছরে রেকর্ড ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে এসেছে ২৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি। অর্থবছর শেষে যা ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশপক্ষ/ এমএইচ

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ