
ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ ও অচল শান্তি আলোচনার মধ্যে বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং–এর সঙ্গে বৈঠকে বসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের ধারণা, ব্যয়বহুল ও রাজনৈতিকভাবে অজনপ্রিয় হয়ে ওঠা ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে চীনের সহায়তা চাইতে পারেন ট্রাম্প।
২০১৭ সালের পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের এটিই প্রথম চীন সফর। তবে সফরের মূল আলোচনাকে ছাপিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাত। এক মাসেরও বেশি সময় আগে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এখন পর্যন্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আসেনি।
এই যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, মধ্যপ্রাচ্যের জোট রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে এবং বিশ্ববাজারে তেল ও জ্বালানিপণ্যের দাম বেড়েছে। ওয়াশিংটন তেহরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার আহ্বান জানিয়ে আসছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।
অন্যদিকে ইরান যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ, বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং লেবাননসহ বিভিন্ন রণাঙ্গনে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়েছে। তবে ট্রাম্প তেহরানের এসব অবস্থানকে “আবর্জনা” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও তেহরানি তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা চীনের কাছে যুক্তরাষ্ট্র এখন আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ওয়াশিংটন চায় বেইজিং যেন পারস্য উপসাগরে ইরানের কর্মকাণ্ড ঠেকাতে কার্যকর চাপ প্রয়োগ করে।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুবিও আরও বলেন, ইরানের প্রতি চীনের যেকোনো ধরনের সমর্থন দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং বাণিজ্য আলোচনায়ও বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
এদিকে জাহাজ চলাচলের তথ্য থেকে জানা গেছে, যুদ্ধ শুরুর পরও চীনা তেলবাহী সুপারট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করছে। একই সঙ্গে জাপান-সংশ্লিষ্ট ট্যাঙ্কারও এই পথ ব্যবহার অব্যাহত রেখেছে। যুদ্ধের আগে জাপান তার প্রায় ৯৫ শতাংশ তেল উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানি করত।
যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতেও নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। ইসরায়েল দাবি করেছে, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু মার্চে গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে আমিরাত সরকার এমন কোনো গোপন সফরের কথা অস্বীকার করেছে।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে বলেছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে আঁতাত করে ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া উপসাগরীয় দেশগুলোর জবাবদিহি করতে হবে।
একই সময়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব ও কুয়েত থেকেও ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে গোপন সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে, যা এই সংঘাতকে আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক রূপ দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, যুদ্ধ শেষের আলোচনা ধীরে হলেও এগোচ্ছে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হলো এমন নিশ্চয়তা পাওয়া যাতে ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে। যদিও তেহরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
সূত্র: রয়টার্স
দেশপক্ষ/ এমএইচ








