ঢাকা, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৩:০৭ পূর্বাহ্ন

বাবা: স্মৃতির আকাশে এক চিরস্থায়ী নক্ষত্র

আমাদের জীবনে বাবা কেবল একজন মানুষ নন, বরং তিনি একটি প্রতিষ্ঠান। একটি আস্থার নাম, একটি আশ্রয়স্থল। ছোটবেলায় বাবা ছিলেন ঘোড়ায় চড়ার সঙ্গী, কৈশোরে তিনি হয়ে ওঠেন শাসন ও শৃঙ্খলার পাহাড়, আর পরিণত বয়সে তিনি হয়ে যান বন্ধু ও পরম অভিজ্ঞ এক পথপ্রদর্শক।

​বাবারা সাধারণত চুপচাপ ধরনের হন। তাদের ভালোবাসার প্রকাশে কোনো চাকচিক্য নেই, আছে পাহাড়সম গভীরতা। সন্তানের জ্বর হলে সারারাত চোখের পাতা এক না করা, কিংবা নিজে আধপেটা খেয়ে সন্তানের প্রিয় খাবারের আবদার মেটানো—এসবের পেছনে যে ত্যাগের গল্প থাকে, তা পৃথিবীর কোনো ভাষায় পূর্ণরূপে বর্ণনা করা অসম্ভব। আমরা যখন সফল হই, তখন বাবা তৃপ্তির হাসিতে চোখ ভেজান; আর যখন ব্যর্থ হই, তখন তিনিই একমাত্র মানুষ যিনি সব ভুলে বুক আগলে বলেন, “ভয় নেই, আমি আছি।”

​যাদের বাবা আজ আর আমাদের মাঝে নেই, তাদের জন্য এই দিনটি কেবলই বেদনার এক বিশাল ক্যানভাস। মাথার ওপর থেকে সেই বটবৃক্ষের ছায়া সরে যাওয়ার পর যে শূন্যতা তৈরি হয়, তা পৃথিবীর কোনো কিছু দিয়েই পূরণ হওয়ার নয়। আমরা হয়তো এখন অনেক বড় হয়েছি, অনেক সফল হয়েছি—কিন্তু মাঝেমধ্যে একলা বিকেলে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মুখে দাঁড়িয়ে আজও অবচেতন মনে বাবার পরামর্শ খুঁজতে চাই। বাবার অনুপস্থিতি মানে কেবল একজন অভিভাবকের হারানো নয়, বরং নিজের অস্তিত্বের একটি বিশাল অংশকে হারিয়ে ফেলা। তবে বাবারা আমাদের ছেড়ে চলে গেলেও, তাদের শেখানো নৈতিকতা, মূল্যবোধ আর সাহস আমাদের ভেতরেই বেঁচে থাকে। প্রতিটি ভালো কাজে, প্রতিটি সততার চর্চায় বাবা যেন আজও আমাদের আড়ালে দাঁড়িয়ে আমাদের পথ দেখাচ্ছেন।

​বর্তমান যান্ত্রিক জীবনের ভিড়ে আমরা অনেক সময় বাবার ঋণ ভুলে যাই। আমরা সফল হতে দৌড়াই, ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত থাকি—কিন্তু ভুলে যাই আমাদের এই দৌড়ানোর শক্তির উৎস ছিলেন তিনি। বাবা দিবসে কেবল একটি দিন উদযাপন নয়, বরং প্রতিদিন তাকে উপলব্ধির সুযোগ তৈরি হোক। তার কর্মময় জীবনের অভিজ্ঞতার গল্পগুলো স্মৃতির পাতায় রোমন্থন করুন। মনে রাখবেন, তারা যেখানেই থাকুন, আমাদের প্রতিটি সাফল্যে তারা সবচেয়ে বেশি গর্বিত বোধ করেন।

​পৃথিবীর সকল বাবা ভালো থাকুন—সে তিনি আমাদের মাঝেই থাকুন, আর পরপারে। আমাদের অস্তিত্বের প্রতিটি পরতে পরতে তার মেধা ও পরিশ্রম জড়িয়ে আছে। বাবা বেঁচে থাকুক আমাদের প্রতিটি অনুপ্রেরণায়, প্রতিটি পদক্ষেপে।

( মানিক লাল ঘোষ :সাংবাদিক ও কলামিস্ট। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহ সভাপতি)

দেশপক্ষ/ এমএইচ

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ