ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:০৬ অপরাহ্ন

ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করলেন ছাত্রলীগ নেত্রী তাহসিন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ প্রত্যাখ্যান করেছেন ২০২৩ বর্ষের শিক্ষার্থী এ আর তাহসিন জাহান। ২০২৪ সালে নিজের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে ‘মবের শিকার’ হয়েছিলেন দাবি করে এই পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তাহসিন জাহান এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার ইন পাবলিক পলিসি (এমপিপি) প্রোগ্রামে মাস্টার্স করছেন।

ফেসবুক পোস্টে তাহসিন জাহান লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছরের স্নাতকজীবনের শুরু থেকেই তিনি ডিনস অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার দিনটির জন্য অপেক্ষা করেছেন। অসংখ্য নির্ঘুম রাত, চার বছরের কঠোর পরিশ্রম এবং নিজের সর্বোচ্চটুকু দেওয়ার পর নিজ বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে তার এই পুরস্কার গ্রহণ করার কথা ছিল।

তবে শেষ পর্যন্ত তিনি সেই পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন।

তাহসিন লেখেন, “একসময় যে পুরস্কারটি অর্জনের জন্য এতটা পরিশ্রম করেছি, আজ সেটিই প্রত্যাখ্যান করা আমার জন্য সহজ কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। কিন্তু কোনো পুরস্কারের মর্যাদা আমার কাছে একটি প্রতিষ্ঠানের নৈতিক দায়বদ্ধতার ঊর্ধ্বে নয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ডিনস অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করা তার কাছে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি উদযাপনের মতো হতো, যে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন হাজার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয় ও মতাদর্শের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেখেও তাদের প্রতি নিজেদের দায়িত্ব পালন করেনি।

নিজের ২০২৪ সালের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তাহসিন জাহান দাবি করেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তিনি ‘মবের শিকার’ হয়েছিলেন। কোনো ধরনের সহিংসতার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকা সত্ত্বেও নিজের বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেই তিনি হুমকির মুখে পড়েছিলেন বলে জানান।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে ফাইনাল ভাইভায় অংশ নিতে এবং স্নাতক থিসিস জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। নিজের শারীরিক নিরাপত্তার কারণে একপর্যায়ে তিনি ক্যাম্পাসেও ফিরতে পারেননি।

তবে ওই সময় তার বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক তার শিক্ষার অধিকারের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন বলে জানান তাহসিন। তাদের সহযোগিতায় নিরাপদ জায়গা থেকে অনলাইনে ফাইনাল ভাইভায় অংশ নিয়ে শেষ পর্যন্ত স্নাতক সম্পন্ন করতে পেরেছিলেন তিনি।

ওই শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাহসিন লেখেন, “তাঁদের কারণেই শেষ পর্যন্ত নিরাপদ জায়গা থেকে অনলাইনে ফাইনাল ভাইভায় অংশ নিয়ে আমার স্নাতক শেষ করতে পেরেছিলাম। তাঁদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা এবং শ্রদ্ধা সব সময় থাকবে।”

পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে তার মতো ১০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী একই ধরনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নীরব থেকে ‘মৌলবাদী মবকে’ সমর্থন করেছে এবং এখনো করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তাহসিনের ভাষায়, “এমনকি কারাগারে থাকা সবচেয়ে গুরুতর অপরাধীরও শিক্ষা গ্রহণের অধিকার রয়েছে। অথচ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসন নিজেদের শিক্ষার্থীদের সেই অধিকার রক্ষায় কোনো অর্থবহ পদক্ষেপ নেয়নি।”

নিজের শিক্ষাজীবনে সহযোগিতা করা শিক্ষকদের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, তার অর্জনের পেছনে ওই শিক্ষকদের অবদান রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনের ভূমিকার কারণে সেই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাওয়া পুরস্কার গ্রহণ করে নিজের অর্জন উদযাপন করতে তিনি রাজি নন।

তাহসিন জাহান লেখেন, “যে প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসন হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জীবন ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যেতে দেখেও তাদের পাশে দাঁড়ায়নি, সেই প্রতিষ্ঠানের পুরস্কার গ্রহণ করে আমি নিজের অর্জন উদযাপন করতে পারি না।”

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ১৬টি বিভাগের মোট ৪৮ জন শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। একই অনুষ্ঠানে সেরা গ্রন্থ ও নিবন্ধের জন্য দুজন শিক্ষককেও এই সম্মাননা দেওয়া হয়।

দেশপক্ষ/ এমএইচ

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ