ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:০৮ অপরাহ্ন

আজ মহান শিক্ষা দিবস

আজ ১৭ সেপ্টেম্বর, মহান শিক্ষা দিবস। ১৯৬২ সালের এই দিনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বৈষম্যমূলক শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজের আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নেয়। শিক্ষার অধিকার, বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা এবং ছাত্রসমাজের আত্মত্যাগের স্মরণে প্রতিবছর বাংলাদেশে দিনটি মহান শিক্ষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।

১৯৫৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর পাকিস্তান সরকার শিক্ষাসচিব এস এম শরীফের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের শিক্ষা কমিশন গঠন করে। কমিশন ১৯৫৯ সালের ২৬ আগস্ট তাদের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনের বিভিন্ন সুপারিশ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

শরীফ কমিশনের প্রতিবেদনে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষাকে অবাস্তব হিসেবে উল্লেখ করা, স্বল্প ব্যয়ে শিক্ষা দেওয়ার বিরোধিতা এবং দুই বছরের ডিগ্রি কোর্স তিন বছর করার মতো সুপারিশ ছিল। এসব প্রস্তাবকে শিক্ষার সুযোগ সংকুচিত ও বৈষম্যমূলক করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখেন শিক্ষার্থীরা।

১৯৬২ সালের আগস্ট থেকে এসব সুপারিশের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলন জোরালো হতে থাকে। ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় অনুষ্ঠিত এক সভায় ১৭ সেপ্টেম্বর প্রদেশব্যাপী হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। নির্ধারিত দিনে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে পিকেটিং ও বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও আন্দোলনে যুক্ত হন।

আন্দোলন দমনে পুলিশের গুলিতে নবকুমার হাইস্কুলের ছাত্র বাবুল নিহত হন। গুলিতে আহত হন বাসের কন্ডাক্টর গোলাম মোস্তফা ও গৃহকর্মী ওয়াজিউল্লাহ। পরে ওয়াজিউল্লাহ মারা যান। প্রাণহানির ঘটনায় আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

পরবর্তী সময় শরীফ কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়ন স্থগিত করা হলে আন্দোলনের গতি স্তিমিত হয়। সেই ঐতিহাসিক আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগের স্মৃতি এবং শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিকে স্মরণ করে ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে মহান শিক্ষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

শিক্ষাকে সবার অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের প্রত্যয়ের দিন হিসেবেও মহান শিক্ষা দিবসের গুরুত্ব রয়েছে।

 

দেশপক্ষ/ এমএইচ

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ