
শরীয়তপুরের নড়িয়া রক্ষা বাঁধ ও ‘জয় বাংলা এভিনিউ’ প্রকল্প রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নড়িয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী নেত্রী সুলতানা রাজিয়া মনি।
বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ দাবি জানান।
স্ট্যাটাসে সুলতানা রাজিয়া মনি উল্লেখ করেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে এবং শরীয়তপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীমের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নড়িয়ার মানুষের সঙ্গে নিয়ে নড়িয়া রক্ষা বাঁধ বাস্তবায়নের কাজ করা হয়। ‘জয় বাংলা এভিনিউ’ নামে পরিচিত এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১০ দশমিক ২০ কিলোমিটার স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এই নারী নেত্রী বলেন, আজ সুরেশ্বরের ১০০ মিটার এলাকায় ধসে গেছে। এর জন্য দায়ী
বালু খেকোরা। তারা ২০২৪ সালের পর থেকে পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় আজ আমরা আবারও ভাঙন শিকার হতে যাচ্ছি৷ এই বালুখোরদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, নদীতীর সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে ‘পদ্মা নদীর ভাঙন হতে ভেদরগঞ্জ রক্ষা’ প্রকল্পের আওতায় সখিপুরের ‘সোনার বাংলা এভিনিউ’ থেকে প্রায় ৮৩ কোটি টাকা বরাদ্দ এনে ২০২৩-২৪ সালে মুলফৎগঞ্জ থেকে সুরেশ্বর বাজার পর্যন্ত আইডব্লিউএমের (IWM) মাধ্যমে মাল্টিবিম বাথিমেট্রিক সার্ভে করা হয়। ওই জরিপের মাধ্যমে নদীর গভীর ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে নদীতীর শক্তিশালী করার কাজ করা হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে ২০২৪ সালের পর থেকে প্রয়োজনীয় মাল্টিবিম বাথিমেট্রিক সার্ভে, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের কার্যক্রম তেমন দৃশ্যমান নয় বলে অভিযোগ করেন সুলতানা রাজিয়া মনি।
একই সঙ্গে পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, গত দুই বছরে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে সুরেশ্বর ও নড়িয়া রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি জাজিরার বিভিন্ন এলাকাতেও নদীভাঙন শুরু হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সুরেশ্বরে সাম্প্রতিক ভাঙনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, নড়িয়া রক্ষা বাঁধের জন্য স্থানীয় মানুষ দীর্ঘদিন ধরে যে প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছেন, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অভাবে সেই বাঁধ এখন হুমকির মুখে পড়েছে। আমরা ভাঙনমুক্ত নিরাপদ চাই।
এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি নিয়মিত মাল্টিবিম বাথিমেট্রিক সার্ভে পরিচালনা, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে প্রয়োজন অনুযায়ী জিওব্যাগ ডাম্পিং, নদীতীর রক্ষা প্রকল্পের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সুলতানা রাজিয়া মনি।
তিনি বলেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে নড়িয়া ও সুরেশ্বরসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার নদীতীরবর্তী জনপদ আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।
দেশপক্ষ/ এমএইচ









