ঢাকা, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ৪:১৬ পূর্বাহ্ন

সুরেশ্বরসহ নড়িয়া রক্ষা বাঁধ রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা চাইলেন এনামুল হক শামীম

শরীয়তপুরের নড়িয়া রক্ষা বাঁধ ও ‘জয় বাংলা এভিনিউ’ প্রকল্প রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক পানি সম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম।

বুধবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি সুরেশ্বরসহ নড়িয়া রক্ষা বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

স্ট্যাটাসে এনামুল হক শামীম উল্লেখ করেন, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নড়িয়ার মানুষের সঙ্গে নিয়ে নড়িয়া রক্ষা বাঁধ বাস্তবায়নের কাজ করা হয়। ‘জয় বাংলা এভিনিউ’ নামে পরিচিত এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১০ দশমিক ২০ কিলোমিটার স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, নদীতীর সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে ‘পদ্মা নদীর ভাঙন হতে ভেদরগঞ্জ রক্ষা’ প্রকল্পের আওতায় সখিপুরের ‘সোনার বাংলা এভিনিউ’ থেকে প্রায় ৮৩ কোটি টাকা বরাদ্দ এনে ২০২৩-২৪ সালে মুলফৎগঞ্জ থেকে সুরেশ্বর বাজার পর্যন্ত IWM-এর মাধ্যমে মাল্টিবিম বাথিমেট্রিক সার্ভে করা হয়। ওই জরিপের মাধ্যমে নদীর গভীর ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে নদীতীর শক্তিশালী করার কাজ করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

তবে ২০২৪ সালের পর থেকে প্রয়োজনীয় মাল্টিবিম বাথিমেট্রিক সার্ভে, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের কার্যক্রম দৃশ্যমান নয় বলে অভিযোগ করেন সাবেক এই উপমন্ত্রী।

একই সঙ্গে পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, গত দুই বছরে নদীটি বালু উত্তোলনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে সুরেশ্বর ও নড়িয়া রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি জাজিরার বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন শুরু হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সুরেশ্বরে সাম্প্রতিক ভাঙনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এনামুল হক শামীম বলেন, নড়িয়া রক্ষা বাঁধের জন্য স্থানীয় মানুষ দীর্ঘদিন ধরে যে চেষ্টা করেছেন, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অভাবে সেই বাঁধ এখন হুমকির মুখে পড়েছে।

তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি নিয়মিত মাল্টিবিম বাথিমেট্রিক সার্ভে পরিচালনা, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে প্রয়োজন অনুযায়ী জিওব্যাগ ডাম্পিং, নদীতীর রক্ষা প্রকল্পের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

এদিকে, এনামুল হক শামীমের ওই পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। পোস্টটি প্রকাশের ১২ ঘণ্টার মধ্যে ৫০৩টি রিয়েক্ট, ৮৯টি কমেন্ট এবং ৭৫টি শেয়ার হয়েছে বলে পোস্টের পরিসংখ্যানে দেখা যায়।

কমেন্টে স্থানীয়দের কেউ কেউ নড়িয়া রক্ষা বাঁধ নির্মাণে তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

জিএম নিরব হোসেন নামে একজন মন্তব্য করেন, “বঙ্গবন্ধু কন্যা, মানবতার মা জননেত্রী শেখ হাসিনার শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার। ফাটাকেষ্ট সাবেক পানি সম্পদ উপমন্ত্রী, কর্মবীর এনামুল হক শামীম ভাই। আপনার শূন্যতা অনুভব করছে অসহায় নড়িয়াবাসী।” তিনি নড়িয়ার সুরেশ্বর বাজার, মাছঘাট, হালইসার ও টিএনটি মোড়ের বর্তমান পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন।

বাপ্পী হোসাইনী নামে আরেকজন মন্তব্য করেন, “আপনি করেছেন উন্নয়ন, ওরা করতেছে বালু চুরি।”

অন্যদিকে জিয়াউল হক তপাদার নামে একজন মন্তব্য করেন, “আমাদের সুরেশ্বর ঘাটের ইলিশ এখন চাঁদপুরে যায়।”

স্থানীয়দের এসব মন্তব্যে নদীভাঙন, বালু উত্তোলন এবং রক্ষা বাঁধের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে।

এ অবস্থায় সুরেশ্বরসহ নড়িয়া রক্ষা বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় কারিগরি সমীক্ষা, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ