ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ৬:৩৭ অপরাহ্ন

হামের ভয়াবহ বিস্তার, সতর্কবার্তা ডব্লিউএইচওর

বাংলাদেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাবকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রকাশিত এক বিস্তারিত প্রতিবেদনে সংস্থাটি এই সতর্কতা জারি করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ জেলায় হাম ছড়িয়ে পড়েছে। টিকার ঘাটতি, সংক্রমণের বিস্তার এবং মৃত্যুর হার বৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতি দেশের পূর্ববর্তী অর্জনকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে দেশে হামের সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে শুরু করে। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ১৯ হাজার ১৬১ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়। এর মধ্যে পরীক্ষাগারে ২ হাজার ৯৭৩ জনের হাম নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সময়ে ১৬৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যারা হামের উপসর্গে আক্রান্ত ছিল।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১২ হাজার ৩১৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশের প্রায় ৯১ শতাংশ জেলা এখন হামের ঝুঁকিতে রয়েছে।

ঢাকা বিভাগ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে ৮ হাজার ২৬৩ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মধ্যে রয়েছে ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কামরাঙ্গীরচর, কড়াইল, মিরপুর এবং তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও বস্তি এলাকা। এছাড়া রাজশাহীতে ৩ হাজার ৭৪৭ জন, চট্টগ্রামে ২ হাজার ৫১৪ জন এবং খুলনায় ১ হাজার ৫৬৮ জন আক্রান্তের তথ্য পাওয়া গেছে।

হামের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ওপর। আক্রান্তদের ৭৯ শতাংশই এই বয়সসীমার মধ্যে, যার মধ্যে ৬৬ শতাংশের বয়স দুই বছরের নিচে এবং ৩৩ শতাংশের বয়স নয় মাসের কম।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর শিকার হওয়া শিশুদের অধিকাংশই টিকা না পাওয়া বা আংশিক টিকা পাওয়া ছিল। ৯১ শতাংশ রোগী ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী, যা এই বয়সসীমার মধ্যে টিকাদান ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।

ডব্লিউএইচও বলছে, ২০২৪-২৫ সালে এমআর (হাম-রুবেলা) টিকার জাতীয় কভারেজ হ্রাস এবং ২০২০ সালের পর থেকে নিয়মিত সম্পূরক টিকাদান কর্মসূচি (এসআইএ) না থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।

এছাড়া অপুষ্টি ও ভিটামিন এ-এর ঘাটতি থাকা শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অন্ধত্ব ও এনসেফালাইটিসসহ জটিলতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মৃত্যুঝুঁকি আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

-নি/ এমএইচ

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ