ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬, ৬:০৬ অপরাহ্ন

রাজনীতির ফিনিক্স পাখি: বাধা মাড়িয়ে ফিরে আসার নাম শেখ হাসিনা

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রক্ত ও আদর্শের যোগ্য উত্তরসূরি জননেত্রী শেখ হাসিনা। পিতার মতোই সাহসী তিনি; যাঁর অভিধানে ‘ভয়’ শব্দটি নেই। তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তীব্র সংকটের মুখেও ধৈর্য না হারিয়ে দূরদর্শী ও সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। ২০০৭ সালের ৭ মে তৎকালীন সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রক্তচক্ষু ও অবৈধ নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তাঁর স্বদেশে প্রত্যাবর্তন ছিল অবরুদ্ধ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এক ঐতিহাসিক মহাকাব্য। সেদিন তিনি ফিরেছিলেন বলেই বাংলাদেশ অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রা শুরু করতে পেরেছিল।

​আজ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দেশ যখন আবারও এক গভীর ষড়যন্ত্র আর অনিশ্চয়তার আবর্তে নিমজ্জিত, তখন সেই স্মৃতি আমাদের নতুন করে শক্তি জোগায়। বর্তমানে জননেত্রীর বিরুদ্ধে অসংখ্য সাজানো মামলা এবং আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত নেতাকর্মীদের ওপর নেমে আসা কারাবরণ ও অমানবিক নির্যাতনের যে চিত্র আমরা দেখছি, তা মূলত একটি আদর্শকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা। দেশজুড়ে মব জাস্টিস আর প্রতিহিংসার রাজনীতি আজ সাধারণ মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।

​কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী দেয়, বঙ্গবন্ধু কন্যাকে কখনোই কোনো কারাগার বা ষড়যন্ত্র দিয়ে দাবিয়ে রাখা যায়নি। ১৯ বার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা এই নেত্রী যেমন ২০০৭ সালে সব বাধা মাড়িয়ে দেশে ফিরেছিলেন, ২০২৪-এর পরবর্তী এই দুর্যোগময় পরিস্থিতি কাটিয়েও তিনি আবারও বাংলার মাটিতে সগৌরবে পা রাখবেন। চলমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণ এবং জনগণের হারানো সাংবিধানিক অধিকার পুনরুদ্ধারে তাঁর অদম্য নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই।

​৫ আগস্ট পরবর্তী সকল অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের দেয়াল ভেঙে শেখ হাসিনা আবারও ফিরে আসবেন এই বিশ্বাস আজ কোটি মানুষের হৃদয়ে। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন হবে ৭ ও ১৭ মে-র মতোই এক ঐতিহাসিক বিজয়, যা দেশ পুনর্গঠন এবং একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথ প্রশস্ত করবে। ষড়যন্ত্রের মেঘ যতই ঘনীভূত হোক না কেন, সত্যের সূর্য উদয় হবেই; আর সেই সত্যের অগ্রপথিক হয়েই শেখ হাসিনা আবারও ফিরবেন তাঁর মানুষের ভালোবাসায়।

( মানিক লাল ঘোষ :– সাংবাদিক ও কলামিস্ট। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহ সভাপতি)

-নি/ এমএইচ

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ