
# ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে হাম, মৃত্যু ৪১৫ ও আক্রান্ত হয়েছে ৫০ হাজার ৫০০ জন
# এখনো বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার বাইরে রয়েছে: ইউনিসেফ
# চার সপ্তাহের মধ্যে হাম নিয়ন্ত্রণে আসবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
# হামে প্রাণ হারানো শিশুদের নিয়ে সাকিবের আবেগঘন বার্তা
# চার শতাধিক শিশুর মৃত্যুতে ড. ইউনূস-নূরজাহানসহ জড়িতদের শাস্তি দাবি
দিন যতই যাচ্ছে,ততই দেশজুড়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ঘাতক হাম। বৃদ্ধ-শিশু কাউকেই ছাড় দিচ্ছে প্রাণঘাতি এই রোগ। তবে ভয়ঙ্কর রুপ ধারণ করে সবচেয়ে বেশি প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে নিষ্পাপ শিশুদের। সংক্রমণ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে ওঠায় সরকার দেশব্যাপী টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করেছে। তবে এখনো বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার বাইরে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত ১ হাজার ৪৫৯ জন। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে মৃত্যু দাঁড়ালো ৪১৫ জনে এবং আক্রান্ত হয়েছে ৫০ হাজার ৫০০ জন।
সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এরআগে প্রাণঘাতি হামে আক্রান্ত হয়ে শিশুদের মৃত্যুর জন্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও নূরজাহান বেগমসহ জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্সসহ নাগরিক সমাপজের প্রতিনিধিরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, হামে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে গত দেড় মাসে সারা দেশে ৪১৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৬৫টি শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৩৫০ জন। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ৬ হাজার ৯৩৭ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৫০ হাজার ৫০০ জন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগে হাম ও হাম উপসর্গে ১৮২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে ২৭ হাজার ৪৮৯ জন। এই হিসাব গত ১৫ মার্চ সকাল ৮টা থেকে ১১ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের। তবে এখনো বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার বাইরে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ। তাদের তথ্যমতে, শহরাঞ্চলে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ এবং গ্রামাঞ্চলে প্রায় ১৫ শতাংশ শিশু এখনো হাম প্রতিরোধী টিকা পায়নি। দ্রুত টিকাদান পরিস্থিতি যাচাই পদ্ধতি বা আরসিএম বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত ১ হাজার ৪৫৯ জন। এরআগে ১০ মে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চারজনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছিল, আর সাতজন মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে মৃত্যু দাঁড়ালো ৪১৫ জনে এবং আক্রান্ত হয়েছে ৫০ হাজার ৫০০ জন। গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু ঠেকাতে সরকার দেশজুড়ে টিকার ক্যাম্পেইন শুরু করেছে। তবে সব শিশু টিকার আওতায় আসছে না। ইউনিসেফের দেওয়া তথ্য পেয়ে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে যাচাই করে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। টিকাদান পরিস্থিতি দ্রুত যাচাই পদ্ধতি (আরসিএম) থেকে ইউনিসেফ বলছে, এখনো শহর এলাকায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ এবং গ্রাম এলাকায় ১৫ শতাংশ শিশু টিকা পায়নি। রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকায় একটি বাড়িতে ছোট ছোট ঘরে ১৪টি পরিবার বাস করে। নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো এখানে ভাড়া থাকে। পরিবারগুলোতে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী পাঁচটি শিশু আছে।
সোমবার সকালে একজন মা বলেন, সব বাচ্চা টিকা পেয়েছে। এলাকার খান হাসান আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এসব শিশু টিকা নিয়েছে। কাঁঠালবাগান ঢাল থেকে হাঁটাপথে কারওয়ান বাজার আসতে সময় লাগে ১০ থেকে ১২ মিনিট। কাঁঠালবাগান থেকে সাড়ে ১১টার দিকে কারওয়ান বাজার মেট্রোরেল স্টেশনের সিঁড়ির নিচে কথা হয় লামিয়ার সঙ্গে। ময়মনসিংহের একটি গ্রাম থেকে এসে লামিয়া সংসার পেতেছেন রাজধানীর ফুটপাতে,মেট্রোরেল স্টেশনের সিঁড়ির নিচে। লামিয়ার দুটি সন্তান। একটির বয়স সাত মাস। বড়টির আড়াই বছর। লামিয়া জানালেন, কোনো সন্তানই টিকা পায়নি। হামের টিকা দেওয়া হচ্ছে, এ কথা লামিয়া জানেন না। কোথায় গিয়ে টিকা নিতে হবে, সেই তথ্য তাঁর কাছে নেই। তবে জনস্বাস্থ্যবিদ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের (সিডিসি) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক বে-নজীর আহমেদ বলেন, টিকার ব্যাপারে প্রচার-প্রচারণার ঘাটতি আছে। মানুষের মধ্যে দ্বিধা আছে। আগে ৯ মাস বয়সীদের টিকা দেওয়া হতো, এখন বয়স কমিয়ে ৬ মাস করা হয়েছে। এতে শিশুর ক্ষতি হবে কি না, তা মায়েদের মধ্যে দ্বিধা তৈরি করতে পারে। এর জন্য দরকার ছিল স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে মায়েদের মুখোমুখি যোগাযোগ। সেটি হয়নি। গত ৫ এপ্রিল দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় টিকা দেওয়া শুরু হয়। ১২ এপ্রিল ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকা দেওয়া শুরু হয়। ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশের শহরে ও নগরে টিকা দেওয়া শুরু হয়। চলবে ২০ মে পর্যন্ত।
টিকাদান পরিস্থিতি দ্রুত যাচাই পদ্ধতি (আরসিএম) থেকে ইউনিসেফ বলছে, এখনো শহর এলাকায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ এবং গ্রাম এলাকায় ১৫ শতাংশ শিশু টিকা পায়নি। টিকা ক্যাম্পেইনে ১ কোটি ৮০ লাখ ১৬ হাজার ৯১৪ জন শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে,লক্ষ্যমাত্রার ৯৯ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের সংখ্যা জানার চেষ্টা করা হয় র্যাপিড কনভিনিয়েন্ট মনিটরিং (আরসিএম) বা দ্রুত যাচাই পদ্ধতিতে। তাতে দেখা যাচ্ছে, শহরে ও গ্রামে কোনো কোনো শিশু হামের টিকা পায়নি। গত শনিবার পরশু বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে হামবিষয়ক একটি গোলটেবিল বৈঠকে ইউনিসেফের টিকা বিভাগের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপক রিয়াদ মাহমুদ বলেন, আরসিএম হয়েছে এমন এলাকার মধ্যে শহরে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ এবং গ্রামে ১৫ শতাংশ শিশু টিকা পায়নি। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানার চেষ্টা করেছেন ছয় মাস বয়স থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুরা হামের টিকা পেয়েছে কি পায়নি। সোমবার রাজধানীর মিরপুরের ভাষানটেক বস্তি এলাকায় ১২টি পরিবারের সব শিশু হামের টিকা পেয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা এও জানান, ব্র্যাকের স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁদের শিশুদের টিকা দিতে সহায়তা করেছেন। এদিন দুপুরে শাহবাগ এলাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা নিতে আসা বেশ কয়েকজন শিশুর মা-বাবার সঙ্গে কথা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা এক বাবার কোলে আড়াই বছরের মেয়ে ছিল।
ওই বাবা বলেন, তাঁর মেয়ে ৯ মাস বা ১৫ মাস বয়সে কোনো টিকা পায়নি। এখনো কোনো টিকা পায়নি। কেন টিকা পায়নি, তা বলতে চাননি তিনি। নরসিংদীর রায়পুরা থেকে আসা এক দম্পতি জানান, তাঁদের তিন বছরের ছেলের অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো হচ্ছে। তাই তাঁরা হামের টিকা ছেলেকে দেননি। তাঁদের ধারণা, এই সময় টিকা নিলে ছেলের ক্ষতি হতে পারে। তবে রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকার গাজী বস্তিতে হামের টিকা না পাওয়া শিশুর খোঁজ পাওয়া গেছে। সাত মাস বয়সী আয়েশা মনির পাশে বসে বাবা সানোয়ার হোসেন বলেন, মুঠোফোনে কিছু ভিডিও দেখে তিনি টিকার বিষয়ে নিরুৎসাহিত হয়েছেন। তাই মেয়েকে টিকা দেননি। সুমাইয়া বেগম মনে করেন, টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। সে জন্য নিজের দেড় বছর বয়সী ও চার বছর বয়সী দুই সন্তানকে টিকা দেননি। এই বস্তিতে ১০টি পরিবারের মা-বাবার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিটি পরিবারে ছয় মাস বয়স থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আছে। এদের মধ্যে তিনজন শিশু টিকা পেয়েছে, সাতজন পায়নি। সারা দিন বাইরে বাইরে থাকি। কী জানি কখন টিকা দেয়। বাচ্চাদের হাম হচ্ছে শুনেচি। টিকার কথা তো শুনি নাই। কথা হয় মিরপুর গার্লস আইডিয়াল স্কুলের সামনে ভ্যানে ফল বিক্রেতা রূপালী আক্তারের সঙ্গে। রূপালী আক্তারের সঙ্গে ছিল ৩ বছর বয়সী ছেলে তানভীর। এখনো হামের টিকা পায়নি শিশুটি।
রূপালী আক্তার বলেন, সারা দিন বাইরে বাইরে থাকি। কী জানি কখন টিকা দেয়। বাচ্চাদের হাম হচ্ছে শুনেচি। টিকার কথা তো শুনি নাই। সম্প্রতি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এক গোলটেবিল বৈঠকে ইউনিসেফের কর্মকর্তা রিয়াদ মাহমুদ বলেছেন, সব শিশুকে টিকার আওতায় আনার জন্য সব পক্ষকে কাজ করতে হবে। একইসুরে কথা বলেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। তিনি বলেন, বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শিক্ষক ও নাগরিক সমাজের সহায়তা নিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা যেন বাদ পড়া শিশুদের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এ নিয়ে বাড়তি প্রচারও করা হবে। বাদ পড়া শিশুদের টিকার আওতায় আনার জন্য ব্যাপক প্রচার দরকার বলে অনেকেই মনে করেন।
জনস্বাস্থ্যবিদ বে-নজীর আহমেদ বলেন, গণমাধ্যমে প্রচার চালানো দরকার। এলাকায় এলাকায় মাইকিং করা দরকার। র্যালি হওয়া প্রয়োজন। কেন ছয় মাস বয়সীরা টিকা নেবে, তা মানুষকে বোঝানো দরকার। সবার মধ্যে উদ্দীপনা সৃষ্টি না হলে সব শিশু টিকার আওতায় আসবে না।
চার সপ্তাহের মধে্েয হাম নিয়ন্ত্রণে আসবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, যাদের টিকা দেওয়া হয়েছে তাদের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা তৈরী হতে চার সপ্তাহ সময় লাগবে। তারপর হামের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। সোমবার সকাল সাড়ে ১১ টায় বরিশাল সদর হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চার বছর পর পর হামের টিকা দেওয়ার কথা ছিলো, ২০২০ সালের পর এর ধারাবাহিকতা না থাকায় হাম বর্তমান পরিস্থিতি ধারণ করে। বর্তমান সরকারের হাতে হামের কোনো ভ্যাক্সিন ছিলোনা। অল্প সময়ের মধ্যে টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমানে রোগীর সংখ্যা কমেছে। এদিন হঠাৎ করে বরিশালের বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সকাল ১০টায় বরিশাল সদর হাসপাতাল পরিদর্শনকালে প্রথমেই টিকিট কাউন্টারের যান। সেখানে এক কর্মীকে অনুপস্থিত পেয়ে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। পরে তিনি চিকিৎসকদের হাজিরাখাতা পরিদর্শন করেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
হামে প্রাণ হারানো শিশুদের নিয়ে আবেগঘন বার্তা সাকিবের: হামের প্রকোপে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক ফটোকার্ড পোস্টে তিনি হারিয়ে যাওয়া শিশুদের স্মরণ করেন এবং তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। নিজের পোস্টে সাকিব লিখেছেন, শিশুর হাসিতে যে পৃথিবী বেঁচে থাকে, সেই পৃথিবীর কিছু আলো আজ হামের প্রকোপে নিভে গেছে। হারিয়ে যাওয়া প্রতিটি কোমল প্রাণের প্রতি গভীর শোক ও প্রার্থনা। ক্রিকেট মাঠের বাইরে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক ইস্যুতে প্রায়ই সরব দেখা যায় সাবেক এই অধিনায়ককে। এবারও শিশুদের মৃত্যুতে উদ্বেগ ও সহমর্মিতা প্রকাশ করে ভক্তদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। বর্তমানে দেশের বাইরে আছেন সাকিব আল হাসান। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আর দেশে ফেরেননি সাবেক এই সংসদ সদস্য।
শিশুদের মৃত্যুতে ড. ইউনূস ও নূরজাহানসহ জড়িতদের শাস্তির দাবি: সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে অন্তত চার শতাধিক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিচারের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। গত ৯ মে রাজধানীর পুরান পল্টন মোড়ে এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এই দাবি জানান। হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে অস্বাভাবিক মৃত্যুতে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ইউনূস সরকারের গাফিলতিতে এই ঘটনা ঘটছে বলে বিশেষজ্ঞরা তথ্য প্রমাণসহ বলেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ অনেক দিন ধরে বিশ্বের মধ্যে নানা বিষয় শিশুদের টিকাদান কর্মসূচিতে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী হয়েছে। আজ ইউনূস সরকারের অবহেলায় এই শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো। অথচ সরকার রহস্যজনক কারণে দোষীদের বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে। এজন্য তিনি ইউনূস সরকার ও নূরজাহান বেগমসহ জড়িত সংশ্লিষ্টদের বিচার দাবি করেন।
দেশপক্ষ/ এমএইচ








