ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ৫:০৯ অপরাহ্ন

পাকিস্তানের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক, ‘আল্লামা ইকবাল স্কলারশিপ’ ঘিরে নতুন প্রশ্ন

শিক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক পাকিস্তান সফর এবং দেশটির শিক্ষাব্যবস্থার প্রশংসা ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ‘আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল স্কলারশিপ’-এর আওতায় বাংলাদেশি ৫০০ শিক্ষার্থীকে পূর্ণ বৃত্তিতে পাকিস্তানে পাঠানোর উদ্যোগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

সমালোচকদের দাবি, যেখানে পাকিস্তানের সাক্ষরতার হার প্রায় ৫৯ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশের ৭৭.৯ শতাংশ সাক্ষরতার হার থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পাকিস্তানে উচ্চশিক্ষার জন্য পাঠানোর যৌক্তিকতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, এই উদ্যোগের আড়ালে শুধু শিক্ষা নয়, আদর্শিক প্রভাব বিস্তারের বিষয়টিও জড়িত থাকতে পারে।

বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের শিক্ষা ও আদর্শিক প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। সেই কৌশলের অংশ হিসেবেই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, তরুণদের মধ্যে উগ্র ইসলামিক চিন্তাধারা বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক-ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যও এর পেছনে থাকতে পারে।

এছাড়া পাকিস্তান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের উচ্চশিক্ষা খাতকে ভারত ও ইউরোপের সমতুল্য হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে বলেও মত দিয়েছেন অনেকে। তবে সমালোচকদের ভাষ্য, বাস্তবে পাকিস্তানের শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সূচক এখনও বাংলাদেশ থেকেও পিছিয়ে রয়েছে। তারপরও বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের একাংশ ইসলামাবাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে আগ্রহী বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিদেশি স্কলারশিপ শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও গবেষণার সুযোগ বাড়ায়। তবে বিরোধীরা বলছেন, শিক্ষার নামে কোনো ধরনের আদর্শিক প্রভাব বিস্তারের ঝুঁকি থাকলে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে তুমুল আলোচনা। কেউ এটিকে শিক্ষাগত সহযোগিতা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন—এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিন্তা ও মূল্যবোধে প্রভাব বিস্তারের একটি কৌশলগত উদ্যোগ হতে পারে।

দেশপক্ষ/ এমএইচ

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ