ঢাকা, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১:০৭ পূর্বাহ্ন

অনির্বাচিতভাবে ক্ষমতা দখলকারীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে : শেখ হাসিনা

ফাইল ফটো

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সংবিধানকে পাশ কাটিয়ে অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখল যারা করেছে, একদিন বাংলার মাটিতে তাদের বিচার করতে হবে যাতে আর কখনো কেউ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে না পারে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ। এবং সপ্তম অনুচ্ছেদের ‘খ’-তে আছে, অনির্বাচিতভাবে বা অবৈধভাবে কেউ ক্ষমতা দখল করলে, তার বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট মেটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে চক্রান্ত করে ক্ষমতা দখল করা হয়। এই ক্ষমতা দখল করবার জন্য দীর্ঘদিনের একটা প্রচেষ্টা ছিল। স্বাধীনতা বিরোধী চক্র, জাতির পিতার হত্যাকারীদের বংশধর এবং যারা আমাদের স্বাধীনতা বা মুক্তি সংগ্রামে সহযোগিতা করেনি, তাদের চক্রান্ত অব্যাহত ছিল। এবং এটা আরো ব্যাপকভাবে তারা শুরু করে ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ যখন নির্বাচনে জয়ী হয়ে আবার ক্ষমতায় আসে তখন থেকেই। ২৪-এর নির্বাচন ঠেকাতে চায়, এর আগে ২০১৪ সালের নির্বাচন ঠেকাতে চায়, কিন্তু পারেনি। ২৪-এও পারেনি, কিন্তু তারপর… তারা যেভাবে হত্যাকাণ্ড, অগ্নিসংযোগ এবং ‘লাশ পড়লে সরকার পড়ে যাবে’—এই ঘোষণা দিয়েছিল, সেটা নিশ্চয়ই সবার মনে আছে। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগের অগণিত নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। সমস্ত প্রতিষ্ঠানও ধ্বংস করেছে। এবং এভাবেই কিন্তু ক্ষমতাটা দখল করেছে।

২৬ জুন শুক্রবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবাষিকী উপলক্ষ্যে যুবলীগ আয়োজিত অনলাইন আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ। বক্তব্য রাখেন-  আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মাইনুল হোসেন খান নিখিল

 

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন,  জুলাইতে যে হত্যাযজ্ঞ শুরু, এখনো তা থামে নাই। যারা শাহাদাত বরণ করেছে, তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। বাংলাদেশ অনেক রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি। আমাদের মহান নেতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর নেতৃত্বে আমরা একটি দেশ পেয়েছি, জাতি হিসেবে আত্মপরিচয় পেয়েছি।

 

 

 

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলে তিনি স্বল্পোন্নত দেশে উন্নীত করেছেন বাংলাদেশকে। কিন্তু দুর্ভাগ্য বাঙালি জাতির, যখনই তাদের জীবনে একটু সুখ-শান্তি ফিরে আসে তখনই একটা আঘাত আসে। পাকিস্তান আমল থেকে যে শোষণ-বঞ্চনার শিকার, সেখান থেকে মুক্ত করবার জন্যই তো স্বাধীনতা। কিন্তু যিনি স্বাধীনতা এনে দিলেন, তাকেই নির্মমভাবে হত্যা করল। এটিই হচ্ছে সবথেকে দুর্ভাগ্যের।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যে হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল, জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে, আদর্শকে বিসর্জন দেওয়া হয়েছে, সংগিনের খোঁচায় আমাদের সংবিধান ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছিল। যে সংবিধানে যুদ্ধাপরাধীদের কোন ভোটের অধিকার ছিল না, যুদ্ধাপরাধীদের সংগঠন করবার কোন অধিকার ছিল না। কিন্তু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে জেনারেল জিয়াউর রহমান যখন অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে, ক্ষমতা দখল করেই মার্শাল অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে সেই সংবিধান থেকে ১২ অনুচ্ছেদে এবং ৩৮-এর আংশিক বাতিল করে দিয়ে ওই সমস্ত যুদ্ধাপরাধীদের সংগঠন করবার অর্থাৎ জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিক দল করার সুযোগ দেয়, আর এদের ভোটের অধিকার—যুদ্ধাপরাধীদের ভোটের অধিকার দিয়ে দেয়। এভাবেই বাংলাদেশে স্বাধীনতা বিরোধীদের প্রতিষ্ঠিত করেছিল এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক যে আলবদর, আলশামস এবং রাজাকার বাহিনীসহ বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে আমাদের… সারা বাংলাদেশে গণহত্যা, বুদ্ধিজীবী হত্যা… এই যে হত্যাকাণ্ড যারা চালিয়েছে, নারীদের উপর পাশবিক অত্যাচার, নারীদের তুলে নিয়ে ক্যাম্পে দিয়ে দেওয়া, তাদের উপরে নির্যাতন, সারা বাংলাদেশে অগ্নিসংযোগ, লুটপাটের সাথে যারা জড়িত—তাদেরকেই ক্ষমতায় বসিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপি—অনেক পদই তারা পেয়েছে।

 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘ ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসে জনগণের সেবা করেছে, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছে, জনগণ… সংবিধান মোতাবেক জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছে। এবং এই সংবিধানকে আমরা সেই ৭২ সালের সংবিধানে রূপান্তরিত করি। যে সংবিধান মাত্র স্বাধীনতার পর ৯ মাসের মধ্যে প্রণয়ন করা হয়, ১০ মাসের মধ্যে গ্রহণ করা হয়। যে সংবিধানের মৌলিক যে নীতিমালা—জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা। এই জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা—এখানেই তারা হাত দিয়েছিল।

 

 

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, বাঙালি জাতি বা বাংলাদেশ যেমন জাতির পিতা এটা সৃষ্টি করেছেন, ঠিক তেমনি এই অঞ্চলের মানুষের ভোটের অধিকার—’ওয়ান ম্যান ওয়ান ভোট’, এক ব্যক্তি এক ভোট—এটাও কিন্তু ৭০ সালের নির্বাচনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগেই এটা কিন্তু তখনকার সরকার নির্বাচনের আগে এটা করে আমাদেরকে দিয়েছিল, বাংলাদেশকে দিয়েছিল। কারণ ৭০ সালে একজন নির্বাচনে প্রচার অভিযানে একজন কর্মী হিসেবে বাড়ি বাড়ি যেয়ে মানুষকে এই ভোট দেওয়া, এটা আমাদের শিখাতে হয়েছিল, আমরা ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করতাম। যা হোক, সপ্তম অনুচ্ছেদ তারা ভঙ্গ করেছে, সংবিধান ভঙ্গ করেছে। এই সংবিধানের ২৬ থেকে সেই ৩৪ পর্যন্ত প্রত্যেকটা জায়গায় ছিল জনগণের মৌলিক অধিকারের কথা। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা—সব অধিকার এখানে দেয়া আছে। অনুচ্ছেদের ১৩-তে আমাদের অর্থনৈতিক নীতিমালা কী হবে—সরকারি, কো-অপারেটিভ এবং বেসরকারি খাত। এভাবে আমাদের সংবিধান… মানে অর্থনৈতিক নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা, শক্তিশালী করার কথা উল্লেখ করা রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রত্যেকটা মানুষের অন্ন-বস্ত্রের সুযোগ, শিক্ষার সুযোগ, এমনকি বিদ্যুৎ সুযোগ, পল্লী বিদ্যুতের ব্যবস্থা থেকে শুরু করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন—প্রতিটি বিষয়ই কিন্তু আমাদের সংবিধানে বর্ণিত। ২৬-এ যেমন মৌলিক অধিকারের কথা বলা হয়েছে, সেই সাথে সাথে অনুচ্ছেদ ২৭ সেখানে লেখা আছে যে আইনের দৃষ্টিতে সকলে সমান অর্থাৎ আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার প্রত্যেকটা মানুষের। আজকে এই মেটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে বিশ্ব বাটপারি ইউনূস ক্ষমতায় এসে এখানে কি মানুষকে আইনের আশ্রয় নেবার কোন সুযোগ দিয়েছে? কোন সুযোগ নাই। একটা পর একটা হত্যাকাণ্ড হয় বা নির্যাতন করে—সাংবাদিক, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, আইনজীবী, শিক্ষক—তাদেরকে যখন মারে বা আওয়ামী লীগ বা আমাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মারে, তাদের উপরে কি মব ভায়োলেন্স করে! কিন্তু যারা করে তাদের বিচার হয় না এবং যারা ভিকটিম, যাদের ওপর অত্যাচার হয়, তাদেরকেই আবার কারাগারে পাঠায়, তাদেরই নির্যাতন করে, অর্থাৎ এখানেও প্রত্যেকটা অনুচ্ছেদই তারা ভঙ্গ করে যাচ্ছে।

 

এখানে ধর্মীয় কারণে কোন বৈষম্য করা যাবে না স্পষ্ট আমাদের সংবিধান আছে, কিন্তু আমরা আজকে কি দেখি? মানে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—এমনকি যারা সুফিবাদে বিশ্বাসী বা আহমদিয়া—তাদের ওপর চরমভাবে নির্যাতন চলছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের… মানে এটাই সব থেকে দুর্ভাগ্য যে আজকে আমার আওয়ামী লীগকে ব্যান করেছে। অথচ সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট লেখা আছে, সংগঠন করবার অধিকার প্রত্যেকের আছে। আর আমাদের সংবিধান… মানে সংগঠন তো আওয়ামী লীগ, এই আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা হবার পরেই তো বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। অথচ সেই আওয়ামী লীগকে আজকে সংগঠন করবার অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে, সমাবেশ করার অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। কিন্তু বাংলাদেশে যদি গণতন্ত্র থাকে, তাহলে যেকোনো দল গঠন বা সেই দলের সমাবেশ করবার অধিকার ৩৮ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে করে দেওয়া আছে।

 

আওয়ামী লীগ সভাপতি আরও বলেন, প্রত্যেকটা মানুষের চিন্তা, বিবেকের স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করা ছিল, কিন্তু আজকে কথা বলা যাবে না। আমরা কথা বলতে গেলেই আমাদের বাধা দেওয়া হবে। আমাদের অপরাধটা কী? এমনকি ইউনূস ক্ষমতায় আসার পর একটার পর একটা মিডিয়া—টেলিভিশন, রেডিও—সবকিছু ধ্বংস করেছে, আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে, আর যারাই যখন কথা বলতে গেছে তাদের বন্দী করা হয়েছে। হাজার হাজার সাংবাদিকের চাকরি খেয়েছে, তাদের কারাগারে নিয়ে নির্যাতন করে যাচ্ছে। রাজনৈতিক নেতাকর্মী—ওই তাদের মনপছন্দ ছাড়া বাকি কারও কোনো কথা বলার অধিকারই নেই।

 

৩২ নম্বর বাড়ি তাদের ভীতির জায়গা ‍উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, একটা মানুষের যেকোনো পেশা বা যেকোনো কাজ করবার অধিকার আছে। আজকে আওয়ামী লীগ করবে বা মুক্তিযোদ্ধা হলে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি—এমনকি ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া পর্যন্ত করতে পারবে না। অথচ আমাদের অনুচ্ছেদ ৩৮-এ স্পষ্ট বলা আছে চিন্তা, বিবেক ও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করা। বা ৩৯-এ পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা। ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা ৪০ অনুচ্ছেদে করা… বলা আছে। এমনকি ৪১ অনুচ্ছেদে সম্পত্তির অধিকার আছে, অথচ আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে সব সম্পত্তি নাকি কেড়ে নিয়ে যাচ্ছে! এবং এই ভুয়া মামলা, তার… মানে কাদের বিরুদ্ধে মামলা, আমাদের বিরুদ্ধে কত কি মামলা আমি তো জানিই না, কিন্তু মামলার সাজা হয়ে গেছে! এবং সাজা হয়ে গেছে দেখে ঘর-বাড়ি ভেঙে-টেঙে সব তছনছ, এমনকি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি জাদুঘরটা পর্যন্ত আজকে প্রথমে আগুন দিল, তারপরে বুলডোজার দিয়ে ভাঙল এবং এই ভাঙা বাড়ি বারবার ভাঙা—এমনকি কোনো অনুষ্ঠান হলেই ওখানে কেউ যেতে পারবে না। ওই ৩২ নম্বর স্মৃতি জাদুঘরের ইট-কাঠও এগুলোও বোধহয় তাদের ভীতির জায়গা। ও সেটাও তারা পাহারা দেয়, যেতে দেবে না। মানে এদের দুর্বলতাটা কোথায়, সেটাই দেখতে হবে।

তিনি বলেন,

মানুষের যে মৌলিক অধিকার সংবিধান বলবৎ করেছে, দিয়েছে, সেটাও তো আমাদের ৪৩ অনুচ্ছেদে আছে। কাজেই আজকে এটা বিবেচ্য বিষয় যে আমরা গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলছি, গণতন্ত্র কোথায়? অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীরা গণতন্ত্র দিতে পারে না। আর ১২ই ফেব্রুয়ারি যে নির্বাচন, ওটা তো আগের দিন সন্ধ্যায় নির্বাচন হয়ে গেছে! ওটা সান্ধ্য ভোটের নির্বাচন। আর অবৈধ সরকারের অধীনে অবৈধ নির্বাচন। কাজেই এই সরকার ইউনূস বাটপার অথবা সেই খাম্বা বা গ্রেনেড হামলাকারী—এদের তো কোনো ক্ষমতায় থাকারই অধিকার নাই, কারণ জনগণের ম্যান্ডেট নাই। সেই ক্ষেত্রে আমি আমাদের সকল নেতাকর্মীদের বলব যে আমাদের আরও সুসংগঠিত হতে হবে, মানুষের কাছে যেতে হবে।

 

শেখ হাসিনা বলেন, একটা কথা মনে রাখতে হবে, আওয়ামী লীগের একমাত্র শক্তি হচ্ছে জনগণ। আমরা যতবার ক্ষমতায় এসেছি, আওয়ামী লীগ কোনোদিন অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসে নাই। আওয়ামী লীগ সবসময় জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েই ক্ষমতায় এসেছে। জনগণই শক্তির উৎস, আমরা সেটাই সবসময় বিশ্বাস করি। কিন্তু আজকের বাংলাদেশ—সেই ২০২৪ সালের আগস্ট… ৫ই আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশ হয়ে গেছে জঙ্গিদের দেশ, সন্ত্রাসীদের দেশ, দুর্নীতি, লুটপাট, চুরি, মানুষ খুন—এটেই চলছে। আর সেই বাটপার ইউনূসের সরকারই বলি আর তারেকের সরকার বলি—তাদের গুণটা কী? দুর্নীতি আর মানুষ খুন—এই দুটাই হচ্ছে তাদের আসল গুণ। কাজেই এদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। একটা মিছিল থেকে ৭ জন নাই, তাদেরকে তুলে নিয়ে গেল। আজকে তুরাগ নদীতে দুজনের লাশ পাওয়া গেল ক্ষতবিক্ষত। বাকিরা গেল কোথায়? তিনজনের লাশ পাওয়া গেছে আর চারজনের খবর এখনো পাওয়া যায়নি। বিধবা মায়ের সামনে দিয়ে প্রান্তকে তুলে নিয়ে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সকালবেলা লাশ মানে ফেরত দিল। আলমকে তুলে নিয়ে রাত্রে গ্রেপ্তার করে সকালে লাশ হয়ে আসে। কারাগারও হচ্ছে একটা মৃত্যুকূপ। আয়নাঘর খুঁজে বেরিয়েছে, এখন সারা বাংলাদেশটাকেই আয়নাঘর বানিয়েছে। এটা হচ্ছে দুর্ভাগ্যের।

 

ডিপি/এ এ

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন