ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪:১২ পূর্বাহ্ন

মূল্যস্ফীতির চাপে নিম্ন আয়ের মানুষ, সেপ্টেম্বরে বাড়ল জীবনযাত্রার ব্যয়

মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী গতিতে বিপাকে পড়েছে দেশের সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ। একদিকে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম ও জীবনযাত্রার খরচ ক্রমাগত বাড়ছে, অন্যদিকে কমে যাচ্ছে শ্রমজীবী মানুষের আয়ের পথ। সেপ্টেম্বর মাসে দেশের সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশে, যা ঠিক আগের মাস আগস্টেও ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। অর্থাৎ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে সাধারণ মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেছে শূন্য দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত সেপ্টেম্বর মাসের মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, মূল্যস্ফীতির এমন ঊর্ধ্বগতির বিপরীতে একই সময়ে আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে জাতীয় সাধারণ মজুরি সূচক। সেপ্টেম্বরে সার্বিক মজুরি সূচক কমে ৭ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের মাসেও ছিল ৮ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। কৃষিশ্রমিক, শিল্প খাতের কর্মী কিংবা সেবা খাত-সবক্ষেত্রেই শ্রমিকের মজুরি কমে গেছে। ফলে একদিকে আয়ের সংকোচন এবং অন্যদিকে খরচের বোঝা বৃদ্ধি পেয়ে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনধারণ সংকটে পড়েছে।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি করেছে খাদ্য মূল্যস্ফীতি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ২২ শতাংশে, যা আগস্টে ছিল ৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে খাদ্য মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে মাছ, মাংস, ভোজ্যতেল, ডাল, লবণ ও হরেক রকমের শাকসবজিসহ প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্য কিনতেই ভোক্তাদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে।

অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত খাতে সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ হয়েছে, যা আগস্টে ছিল ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। এক মাসের ব্যবধানে এই খাতে সামান্য স্বস্তি দেখা গেলেও আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় পরিস্থিতি এখন বেশ চড়া। গত বছরের সেপ্টেম্বরে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

অঞ্চলভেদে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, শহরের তুলনায় গ্রাম্য এলাকায় পণ্যের দাম ও জীবনযাত্রার খরচের চাপ বেশি। সেপ্টেম্বর মাসে গ্রামে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছে। তার বিপরীতে শহরের ক্ষেত্রে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কম, অর্থাৎ ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ।

মজুরি কমে যাওয়ার বিষয়ে বিবিএসের বিস্তারিত তথ্যে দেখা গেছে, অর্থনীতির প্রধান প্রধান সব খাতেই আয় সংকুচিত হয়েছে। সেপ্টেম্বরে কৃষি খাতে মজুরি সূচক কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৮৯ শতাংশে, আগস্টে যা ছিল ৮ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। শিল্প খাতেও একই প্রবণতা দেখা গেছে; আগস্টে এই সূচক ৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ থাকলেও সেপ্টেম্বরে তা কমে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশে নেমে এসেছে। একই ধারাবাহিকতায় সেবা খাতে মজুরি কমে ৮ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ হয়েছে, যা আগের মাসে আগস্টে ছিল ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ।

দেশপক্ষ/ এমএইচ

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ