ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ১০:১৬ পূর্বাহ্ন

শঙ্কায় আমিরাতের ‘হরমুজ প্রণালি’

সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ফুজাইরাহ’তে শনিবারের (১৪ মার্চ) ড্রোন হামলা ও অগ্নিকাণ্ডের পর তেল উত্তোলন, সরবরাহ ও রপ্তানি কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত হয়েছিল। তবে এরইমধ্যে বন্দরটির কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

এই বন্দরটি জাহাজে জ্বালানি সরবরাহ এবং অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি রপ্তানির জন্য বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তেল সরবরাহের সক্ষমতার কারণে ফুজাইরাহ বন্দরকে আমিরাতের ‘হরমুজ প্রণালি’ ভাবা হয়। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের পালটা জবাবে ইরানের হামলায় শঙ্কায় পড়েছে বন্দরটি।

বৈশ্বিকভাবে ফুজাইরাহ কেন গুরুত্বপূর্ণ

গত বছর ফুজাইরাহ বন্দর থেকে গড়ে প্রতিদিন ১৭ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছে কেপ্লার (Kpler)। এই পরিমাণ বিশ্বে দৈনিক মোট তেল চাহিদার প্রায় ১.৭ শতাংশের সমান।

বন্দরটি অবস্থিত ওমান উপসাগরের তীরে এবং হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে। বর্তমানে ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক বাজারে ফুজাইরাহ বন্দরের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

২০২৫ সালে এই বন্দর থেকে প্রায় ৭.৪ মিলিয়ন ঘনমিটার (প্রায় ৭.৩৩ মিলিয়ন টন) সামুদ্রিক জ্বালানি বিক্রি হয়েছে। এর ফলে এটি বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম সামুদ্রিক জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্র— সিঙ্গাপুর, রোটার্ডাম এবং চীনের ঝৌসানের পরেই এর অবস্থান।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য এর গুরুত্ব

যুদ্ধ শুরুর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রতিদিন ৩৪ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করত। দেশটির একটি ১৫ লাখ ব্যারেল দৈনিক ক্ষমতার পাইপলাইন রয়েছে, যার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল পরিবহন করা সম্ভব।

আবুধাবি ক্রুড অয়েল পাইপালাইন (এডিসিওপি), যা হাবশান-ফুজাইরাহ নামেও পরিচিত, আবুধাবির তেলক্ষেত্র থেকে ফুজাইরাহ বন্দরে তেল পরিবহন করে। এখান থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জনপ্রিয় ক্রুড গ্রেড মুরবান তেল রপ্তানি করা হয়, যার বড় ক্রেতা এশিয়ার দেশগুলো।

হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ হয়ে থাকায় ফুজাইরাহ বন্দরে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে ওপেকের তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদক দেশটিকে উৎপাদন কমাতে বা বন্ধ করতে হতে পারে।

তেল ও জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব

ফুজাইরাহ বন্দরের মোট সংরক্ষণ ক্ষমতা প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ঘনমিটার, যা এটিকে বিশ্বের অন্যতম বড় তেল ও জ্বালানি সংরক্ষণ ও মিশ্রণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলেছে।

তেল শিল্পে ‘ব্লেন্ডিং’ বলতে বিভিন্ন ধরনের পেট্রোলিয়াম উপাদান মিশিয়ে নির্দিষ্ট মানের চূড়ান্ত পণ্য যেমন: পেট্রোল বা জাহাজের জ্বালানি তৈরি করার প্রক্রিয়াকে বোঝায়।

বন্দরে বিশ্বের বড় বড় স্টোরেজ কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম রয়েছে, যেমন: ভিটিটিআই, ভিটল,অ্যাডনক এবং ভোপাক

এ ছাড়া ফুজাইরাহ তেল শিল্প অঞ্চলে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক পরিশোধিত জ্বালানি সংরক্ষণ সুবিধা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: জিও নিউজ

-নি/ এমএইচ

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ