ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ৩:০৭ পূর্বাহ্ন

২৫ মার্চের রাতে ঢাকাকে রক্ষায় বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ—বাঙালি জাতির ইতিহাসের এক ভয়াল ও রক্তাক্ত অধ্যায়। এই দিনে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ শুরুর মাধ্যমে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর চালায় নির্মম গণহত্যা। তবে এই অন্ধকার রাতেই এক ঐতিহাসিক ও মানবিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ঢাকাবাসীকে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রক্ষা করেছিলেন জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান।

২৫ মার্চ সকাল থেকেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অস্বাভাবিক গতিবিধির খবর আসতে থাকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে। একের পর এক ফোনে পরিস্থিতির ভয়াবহতা সম্পর্কে অবহিত হন বঙ্গবন্ধু। দ্রুত পরিস্থিতি অনুধাবন করে তিনি তার ঘনিষ্ঠ সহকর্মীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

এ সময় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা বঙ্গবন্ধুকেও আত্মগোপনে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেন।

বঙ্গবন্ধু স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আমি কোথাও যাব না। আমি যদি আত্মগোপন করি, তাহলে ঢাকা শহর থাকবে না। তারা তন্ন তন্ন করে তল্লাশি করবে। বহু বাড়ি-ঘরে ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রচুর প্রাণহানি হবে। তার এই সিদ্ধান্ত ছিল শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, বরং লাখো নিরীহ মানুষের জীবন রক্ষার এক দূরদর্শী ও মানবিক পদক্ষেপ।

পরবর্তীতে পাকিস্তানি লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান—যিনি ‘কসাই টিক্কা খান’ নামে কুখ্যাত—এক সাক্ষাৎকারে বঙ্গবন্ধুর আশঙ্কার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, সেদিন রাতে বঙ্গবন্ধুকে না পাওয়া গেলে ঢাকার প্রতিটি ঘরে ঘরে অভিযান চালানো হতো এবং রক্তের বন্যা বইয়ে দেওয়া হতো।

বিশ্লেষকদের মতে, বঙ্গবন্ধুর আত্মগোপনে না যাওয়ার এই সিদ্ধান্ত ঢাকায় সম্ভাব্য আরও বড় মাত্রার গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ অনেকাংশে ঠেকিয়ে দেয়। তার এই সাহসী ও মানবিক অবস্থান ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

দেশপক্ষ/ এমএইচ

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন