ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ৪:০৭ পূর্বাহ্ন

ভেন্টিলেশনের অভাবে ৪৪ শিশুর মৃত্যু, শেখ হাসিনার ক্ষোভ

রাজধানীর একটি সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ভেন্টিলেশন সুবিধার অভাবে ৪৪ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, একটি স্বাধীন দেশে শিশুদের এমন মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতার দিকটি এতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো নির্মাণ বা অর্থনৈতিক সূচকে সীমাবদ্ধ নয়; জনগণের জীবনরক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা দেওয়াও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় তিনি দ্রুত তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানান।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান-এর ঐতিহাসিক অবদান স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বাঙালি জাতির স্বাধীনতার পথচলা শুরু হয়েছিল ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে, যা পরবর্তীতে স্বাধীনতার আন্দোলনে রূপ নেয়।

তিনি উল্লেখ করেন, ঐতিহাসিক 7 March Speech of Bangabandhu বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ করেছিল এবং মুক্তিযুদ্ধের জন্য মানসিক প্রস্তুতি তৈরি করেছিল। সেই ভাষণে জাতির পিতা বাঙালি জাতিকে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং স্বাধীনতার জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতির নির্দেশ দেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করলেও পাকিস্তানের সামরিক শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে অনীহা দেখায়। ফলে রাজনৈতিক সংকট তীব্র হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের পথ তৈরি হয়।

তার মতে, জাতির পিতা শুরু থেকেই বুঝতে পেরেছিলেন যে জনগণের ভোটে জয়ী হলেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সহজে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না। তাই তিনি রাজনৈতিক আন্দোলনের পাশাপাশি জাতিকে সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত করেছিলেন।

তিনি বলেন, ৭ মার্চের ভাষণের পর সারা দেশে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয় এবং প্রশাসন থেকে সাধারণ জনগণ পর্যন্ত সবাই সেই নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ঐ ভাষণ বারবার প্রচার করা হতো, যা মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল।

স্বাধীনতার পর জাতির পিতা দেশ পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠনের জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক মর্মান্তিক ঘটনা।

বর্তমান সময়ের প্রসঙ্গ টেনে হাসিনা বলেন, ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুসের যে চক্রান্ত সেটা তো আজকের থেকে না। সেটা তো এখন বের হচ্ছে। অনেক তথ্যই আজ বেরিয়ে এসেছে। কাজেই আরও তথ্য বেরোবে। চক্রান্ত যেদিন থেকে আমি ফিরে এসেছি, সম্পূর্ণ আগস্ট দেখতে গিয়েছিলাম। আমি আর রেহানা একই ছেলে। ফিরে এসেছি। যখন থেকে নেমেছি তখন থেকেই চক্রান্ত চলছে। কিন্তু সেই চক্রান্ত মোকাবেলা করে করে পাঁচবার ক্ষমতায় এসেছি। বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মর্যাদায় উন্নীত করেছি। অপরাধটা কী? আমার দেশ বিক্রি করতে চাইনি। আজকে যদি আমার বাবা সেন্টমার্টিনে ঘাঁটি করতে দিত বা আমিও যদি দিতাম। আজকে যখন ইরানে আক্রমণ করল, ইরান যখন পাল্টা আক্রমণ করছে, প্রত্যেকটা আমেরিকান ঘাঁটিতে তারা হামলা করছে। বাংলাদেশ বাহ্যত ওখান থেকে না হলে কি অবস্থাটা হতো? একজন রাজনৈতিক নেতার একটা দূরদর্শিতা থাকা দরকার। দেশপ্রেম থাকা দরকার।

তিনি বলেন, আমার ক্ষমতা আর অর্থের লোভ ছিল না। তবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, বারবার তো দেখেছি, এবারও বেঁচে গেছি। এ বাংলাদেশ আবার আমরা ফিরে পাব। আজকে পেশাজীবী যখন ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন, এটাই সবসময় সব আন্দোলন সংগ্রাম সফলতা পায়। গণতন্ত্র রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন। আপনাদের আবারও ধন্যবাদ জানাচ্ছি যে সাহস করে আবার এসেছেন। অনেক জেল জুলুম, অত্যাচার, নির্যাতিত হয়েছেন। ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে মুক্তি আসবেই। সবাইকে ধন্যবাদ। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

দেশপক্ষ/ এমএইচ

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন