
জ্বালানি তেল সংকটের প্রভাবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার পদ্মা সেতু দিয়ে ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এতে সেতুর টোল আদায়ে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সেতু কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৬ সালের মার্চ মাসের তুলনায় এপ্রিলের প্রথম ১৫ দিনে যান চলাচল ও টোল আদায়—দুই ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য কমতি হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মার্চ মাসে পদ্মা সেতু দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২৩ হাজার ২৪৯টি যানবাহন চলাচল করলেও এপ্রিলের প্রথম দুই সপ্তাহে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৩০৩টিতে। এতে মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে যান চলাচল কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ।
একই সময়ে টোল আদায়েও ধস নেমেছে। মার্চ মাসে দৈনিক গড়ে ২ কোটি ৮৩ লাখ টাকার বেশি টোল আদায় হলেও এপ্রিলের প্রথম ১৫ দিনে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ কোটি ২৬ লাখ টাকায়, যা প্রায় ২০ শতাংশ কম।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে ব্যক্তিগত গাড়ি ও ছোট যানবাহনের চলাচল কমে যাওয়াই এ পরিস্থিতির প্রধান কারণ। বিশেষ করে ঈদের পর সাধারণত যাতায়াত বাড়লেও এবার উল্টো প্রবণতা দেখা গেছে।
এদিকে সরেজমিনে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, জ্বালানি সংগ্রহে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন চালকরা। কোথাও কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও তেল না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে অনেককে।
স্থানীয় এক চালক রেজাউল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিনই কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অনেক সময় সামনে গিয়ে জানা যায় তেল শেষ।”
আরেকজন এনজিও কর্মী জানান, কাজের প্রয়োজনে সারাদিন বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হলেও এখন জ্বালানি সংকটের কারণে সময়ের বড় অংশই ব্যয় হচ্ছে পাম্পে দাঁড়িয়ে।
এর আগে ডিসেম্বর ও মার্চ মাসে পদ্মা সেতুতে যান চলাচল ও টোল আদায়ে যথাক্রমে ১৩ ও ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল। তবে এপ্রিলের এই আকস্মিক পতন সেতুর আয়ের লক্ষ্যমাত্রায় চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশপক্ষ/ এমএইচ








