ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ৬:০৭ অপরাহ্ন

# ব্যাটারিচালিত রিকশার ওপর অগ্রিম কর দিতে হবে ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা

এবার করের আওতায় আসছে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও মটরবাইক

রাজস্ব বাড়াতে এবার ব্যাটারিচালিত রিকশা ও মটরবাইকও করের আওতায় আনতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাটারিচালিত রিকশার ওপরও এক হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর আরোপের চিন্তা করছে সংস্থাটি। এছাড়া সিসিভেদে মোটরসাইকেলের ওপরও ২ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হতে পারে। দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, গতি ও গাড়ির ধরনভেদে বিআরটিএ থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন নিতে হবে। কোনো ব্যক্তি নিজ নামে মধ্যমগতির তিনটির বেশি বা গঠিত পরিবহণ কোম্পানির নামে ২৫টির বেশি অটোরিকশা ক্রয় ও নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। ধীরগতির অটোরিকশার ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ পাঁচটি কিনতে ও নিবন্ধন করতে পারবেন। অনুমোদিত ডিলার বা বিক্রেতা নিবন্ধনসংক্রান্ত যাবতীয় কাজ সম্পন্ন না করে মধ্যম ও ধীরগতির বৈদ্যুতিক-অটোরিকশা ক্রেতার কাছে হস্তান্তর করতে পারবেন না। বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলারের ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্ধারিত হারে কর বা শুল্ক প্রযোজ্য হবে। এ নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত থ্রি-হুইলার ও সমজাতীয় মোটরযান চলাচলের ক্ষেত্রে নিবন্ধন সনদ, হালনাগাদ ফিটনেস সনদ, ট্যাক্স টোকেন গ্রহণের বাধ্যবাধকতা আওতায় আনা হয়।

অন্যদিকে গত ২৮ আগস্ট রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন ২০০৯ সংশোধন করা হয়। এতে সিটি করপোরেশনকে ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলারের নিবন্ধন ও অনুমোদনের ক্ষমতা দেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, এলাকাভেদে অটোরিকশার করহার ভিন্ন হবে। লাইসেন্স প্রদান বা নবায়নের সময় এই কর আদায় করবে লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ। ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন সিটি করপোরেশন এলাকার মধ্যে হলে ৫ হাজার, পৌরসভায় হলে দুই হাজার ও ইউনিয়নের ক্ষেত্রে প্রতিবছর এক হাজার টাকা কর দিতে হবে।

বর্তমানে সিএনজি অটোরিকশা ও প্রাইভেট কার, জিপ, এমনকি বাস-ট্রাক-পিকআপের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপিত আছে। সিএনজিতে অগ্রিম আয়কর আড়াই হাজার টাকা দিতে হয়। প্রাইভেটকার ও জিপ গাড়ির সিসিভেদে আয়কর ২৫ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে ৫২ সিটের বেশি আসনের বাসের অগ্রিম আয়কর ২৫ হাজার টাকা, এর কম আসনের বাসের ২০ হাজার টাকা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসে ৫০ হাজার টাকা, দোতলা বাস ও এসি মিনিবাস বা কোস্টারের ২৫ হাজার টাকা, নন-এসি মিনিবাস বা কোস্টারের অগ্রিম আয়কর সাড়ে ১২ হাজার টাকা।

এদিকে সিসিভেদে মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হতে পারে। ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে কোনো অগ্রিম আয়কর দিতে হবে না। তবে ১১১ থেকে ১২৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে বছরে কর দুই হাজার টাকা। ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসি পর্যন্ত পাঁচ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেলের জন্য প্রতিবছর ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর দিতে হবে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সবশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৪৮ লাখ ৭০ হাজার ৭৮০।

জানা যায়, বর্তমানে মোটরসাইকেল চালকদের অগ্রিম আয়কর দিতে হয় না। শুধু এককালীন নিবন্ধন ফি ও ২ বছর পরপর রোড ট্যাক্স দিতে হয়। ৫০ থেকে ১২৫ সিসি মোটরসাইকেলের সর্বমোট রেজিস্ট্রেশন ফি ৯ হাজার ২৯১ টাকা। পরবর্তী ২ বছর পরপর প্রতি কিস্তি এক হাজার ১৫০ টাকা করে ৪টি কিস্তিতে অবশিষ্ট ৪ হাজার ৬০০ টাকা রোড ট্যাক্স পরিশোধ করতে হয়। ১২৫ সিসির বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন ফি ১১ হাজার ৭৬৪ টাকা। পরবর্তী ২ বছর পরপর প্রতি কিস্তি ২,৩০০ টাকা করে ৪টি কিস্তিতে অবশিষ্ট ৯ হাজার ২০০ টাকা রোড ট্যাক্স পরিশোধ করতে হয়।

দেশপক্ষ/ আরএ

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ