ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ন

শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ইরান ইস্যুতে ধৈর্য হারাচ্ছেন ট্রাম্প

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং–এর সঙ্গে বৈঠকের পর ইরান ইস্যুতে নিজের ধৈর্য ফুরিয়ে আসছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার প্রচারিত ফক্স নিউজের ‘হ্যানিটি’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমি আর বেশি ধৈর্য ধরব না। তাদের একটি চুক্তিতে আসা উচিত।”

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের আলোচনায় হরমুজ প্রণালীর নৌপথ খোলা রাখার বিষয়ে দুই নেতা একমত হয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান কার্যত প্রণালীটি বন্ধ করে দেয়, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

চীন ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং দেশটির তেলের প্রধান ক্রেতা হওয়ায় আলোচনায় বেইজিংয়ের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ব পায়। হোয়াইট হাউসের দাবি, শি জিনপিং প্রণালীটির সামরিকীকরণ ও চলাচলে টোল আরোপের বিরোধিতা করেছেন এবং ইরানকে সামরিক সরঞ্জাম না দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান সাময়িক স্থগিত করলেও দেশটির বন্দরগুলোতে অবরোধ জারি রেখেছে। পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ হস্তান্তরের বিষয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা থমকে আছে। ইরান এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি দাবি করছে।

এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে একাধিক সামুদ্রিক ঘটনার জেরে। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ উপকূলে নোঙর করা একটি জাহাজে অননুমোদিত ব্যক্তিরা উঠে সেটিকে ইরানের দিকে নিয়ে যায়। নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ডের দাবি, জাহাজটি ইরানি ব্যক্তিরা দখল করেছে।

একই সময়ে ওমান উপকূলে আফ্রিকা থেকে গবাদিপশু বহনকারী একটি ভারতীয় জাহাজ হামলার শিকার হয়ে ডুবে যায়। ভারত জানিয়েছে, জাহাজটির ১৪ জন নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা, ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার ফলে বিস্ফোরণ ঘটে জাহাজটি ডুবে যেতে পারে।

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, চীন তাদের নিজস্ব অর্থনৈতিক স্বার্থেই হরমুজ প্রণালী সচল রাখতে ভূমিকা রাখবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় বেইজিং তেহরানের ওপর কঠোর চাপ প্রয়োগে কতটা আগ্রহী হবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

এরই মধ্যে ইরান কিছু দেশের সঙ্গে বিশেষ সমঝোতার মাধ্যমে সীমিত জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে বলে জানা গেছে। জাপান ও চীনের কিছু জাহাজ সম্প্রতি প্রণালীটি অতিক্রম করেছে। ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর দাবি, বুধবার সন্ধ্যা থেকে ৩০টি জাহাজ প্রণালীটি ব্যবহার করেছে, যদিও এটি যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় এখনও অনেক কম।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা “উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে”। তবে রয়টার্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান এখনও উল্লেখযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ধরে রেখেছে।

দেশপক্ষ/ এমএইচ

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ