
ইরানকে ঘিরে এক সপ্তাহজুড়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প। কখনও তিনি ইরানের ওপর নতুন হামলার হুমকি দিয়েছেন, আবার কখনও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট ঘিরে ওয়াশিংটনের প্রকৃত অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।
সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নিতে তিনি “মাত্র এক ঘণ্টা দূরে” ছিলেন। তবে পরবর্তীতে তিনি জানান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনুরোধে নতুন হামলা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে।
এদিকে ইরানও যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে। তেহরান জানিয়েছে, তাদের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবের জবাব ওয়াশিংটন পাঠিয়েছে এবং সেটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তবে কূটনীতির পাশাপাশি ট্রাম্প যেন দীর্ঘমেয়াদি চাপ ও সংঘাতের পথও খোলা রাখছেন। বৃহস্পতিবার তিনি সামাজিক মাধ্যমে একটি বিতর্কিত মতামতধর্মী নিবন্ধ শেয়ার করেন, যেখানে ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ জোরদার, সামরিক চাপ বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এর মধ্যেও মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের বারবার অবস্থান পরিবর্তন তেহরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যকে অস্পষ্ট করে তুলছে। জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় এর মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির সহকারী অধ্যাপক সিনা আজোদি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আসলে সমঝোতা চায় নাকি যুদ্ধ চায় সেটিই এখন স্পষ্ট নয়।
তিনি আরও বলেন, ট্রাম্পের একদিকে আলোচনার আগ্রহ দেখানো এবং অন্যদিকে হামলার হুমকি দেওয়া ইরানের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়াকে আরও কঠিন করে তুলছে।
সব মিলিয়ে, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের কৌশল এখন কূটনীতি, সামরিক চাপ এবং দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার মধ্যে দোদুল্যমান বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সূত্র: আলজাজিরা
দেশপক্ষ/ এমএইচ









