
আমি নিয়াভ সারাই। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে (এলএলবি) ব্যাচেলর অফ ‘ল নিয়ে স্টাডি করছি।
দীর্ঘ ৬ মাস ধরে আমি ঠিকমতো ঘুমাতে পারছি না। কারণ, বর্তমানের বাংলাদেশের দৃশই আমাকে ভাবায় “নিয়াভ” বর্তমান বাংলাদেশের সকল কিছুর জন্য তোমার দায়ও আছে।
কারণ, আমি জুলাই প্রোটেস্টে আসল উদ্দেশ্য না বুঝেই গিয়েছিলাম। ৫’ই আগস্টে আমি অনেক খুশি ছিলাম। কারণ, আমি ভেবেছিলাম আমাদের কাছে এসে বলা সকল দাবিগুলো তারা বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু, তাঁর একটিও বাস্তবে তো দূরে থাক, এইসব নিয়ে তারা ভাবেও নাই। আমি যদি জানতাম, এই প্রোটেস্টে অংশগ্রহণ করলে পরবর্তীতে আমার দেশের অস্তিত্ব নিয়ে কথা আসবে, ৭১ নিয়ে বিতর্ক কথা আসবে। যখন জুলাইয়ে প্রোটেস্টে হচ্ছিল, তখন বঙ্গবন্ধুর নাম নিয়ে স্রোগ্রানও হয়েছিল “বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই।” আর, ৫’ই আগস্টের পর এই দৃশ্য পুরোই বিপরীত।
যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ আমাদের দেশের সম্মান। আমাদের দেশের অস্তিত্ব। সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালেই যখন লিখা থাকে “নিজামীর বাংলায় ৭১ এর ঠাই নাই” যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে লিখা থাকে ” নিজামীর বাংলায় মুক্তিযোদ্ধার ঠাই নাই। সেই জুলাই আমার দরকার নাই। যে ৭১ এর জন্যই আমার দেশের নাম বাংলাদেশ।
সেই ৭১ নিয়েই চেতনা করব না তো কি ২৪ নিয়ে করবো? আমি জুলাইয়ে প্রোটেস্টে করায়,বর্তমানে আমি এই স্টেটমেন্ট দিচ্ছি যে, জুলাইয়ে শুরু থেকেই যা হয়েছিল, সবকিছু মেটিকুলাস ডিজাইন। যা ড:ইউনুস, মাহফুজ সহ অনেকে সমন্বয়ক নিজের স্টেটমেন্টে প্রকাশ করেছে। এতগুলো স্টুডেন্ট, জনগণ, পুলিশ সব ধরনের মানুষ মারা গিয়েছে শুধুমাত্র এই মেটিকুলাস ডিজাইন এর জন্যই। তাদের প্রত্যেক জনের বিচার হোক,যে সকল গুপ্তরা, ৭.৬২ এমএম দিয়ে গুলি চালিয়ে রাষ্ট্রের প্রাণে হাত দিয়েছে।
পরবর্তীতে সেইগুলো আমরা জানতে ও দেখেতেও পেরেছি, যারা প্রধান আন্দোলন’কারী ছিলো তারা প্রত্যেক জন্যই কোনো না কোনো ভাবে রাজনীতিক দলের সাথে যুক্ত ছিল।যা ৫’ই আগস্টের পর সম্পূর্ণ পরিষ্কার। আমার বাবা একজন (বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর) একজন মেজর। তিনি (ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন)অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। উনি দেশের কাজে যেহেতু নিয়োজিত আছেন, আমার বাবা হিসেবেই আমি গতকালকে বাবাকে জিজ্ঞেসা করলাম?! (“বাবা যদি আমি কোনো ভুল করে থাকি। তাহলে আমার কি করা উচিত?”) বাবা আমাকে বললেন: (“অবশ্যই তোমার ভুলের জন্য তোমার ক্ষমা চাওয়া উচিত”।) হ্যাঁ। আমি ঠিক সেইটিই করতে এসেছি।
আমি পুরো জাতির কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আমাকে মাফ করবেন। আমি নিজে একজন নারী হয়ে বলছি, আমি শেখ হাসিনার সময়েই নিজেকে বেশি নিরাপত্তায় অনুভব করতে পারতাম। সেইটা তখন থেকে বুঝতে পেরেছি যখন থেকে শেখ হাসিনার অভাব এই দেশে প্রয়োজনে হয়েছে। আজ কিছু স্টুডেন্টদের জন্য দেশের সকল স্টুডেন্টের নাম দেশের জনগণের কাছে এক অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্টুডেন্ট নাম ও স্টুডেন্টদেরকে ব্যবহার করে মব ও সহিংসতা করে অনেকেই ব্যবহার করছে।
আর এই নিয়ে খুব বেশি স্টুডেন্টের কোন প্রতিবাদ নেই। কারণ, তারা ভাবছে সে তো স্টুডেন্ট, তার বিপরীতে কিভাবে আমি যাই? সমাধান একটাই: একটি মানুষের মূল পরিচয় তার ব্যক্তিত্ব।
কোনো স্টুডেন্টও যদি কোনো মব, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি করে থাকে, তাহলে তার জন্য ভিন্ন আইন আছে বলে আমার তো মনে হয় না। সবশেষে একটি কথাই, এই জাতির জন্য শেখ হাসিনার বিকল্প শেখ হাসিনা নিজেই।
আমি যেহেতু জুলাইয়ে আন্দোলনে যোগদান দিয়ে রাষ্ট্রের হৃদয়ে আঘাত এনেছি, তাই যখনই দেশের মা বোনদের নিরাপত্তা ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্যে, যখনই সময় আসবে, আমি তখনি নিজের জীবন দিয়ে হলেও জঙ্গিদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াবোই।
সেইদিনি আমি মনে করবো, আমার সকল অন্যায়ের বিচার আমি নিজেই করেছি। যদি বিচার না করে আমি মারা যাই তাহলে, জাতি যেনো আমাকে মাফ করে দেয়।
দেশপক্ষ/ এমএইচ









