ঢাকা, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ৩:০৬ পূর্বাহ্ন

আ. লীগ ফিনিক্স পাখির মতো ধ্বংসস্তূপ থেকে আবারো জেগে উঠছে: শেখ পরশ

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেছেন, আওয়ামী লীগকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া এবং দলের নেতাকর্মীদের দমন-পীড়ন করাকে জনমনে গণতন্ত্রের নামে প্রহসন হিসেবেই পরিষ্কার হয়েছে। একটি নির্বাহী নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে গণমানুষের দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার মানে দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তি ধ্বংস করে দেওয়া। তিনি বলেন,  আওয়ামী লীগ ফিনিক্স পাখির মতো ধ্বংসস্তূপ থেকে বারবার জেগে ওঠার দল। এবং প্রতিবারই শোষকদের গ্রাস থেকে এদেশকে মুক্ত করেছে আওয়ামী লীগ। তাই যুবলীগের প্রতিটা নেতাকর্মীকে বুক তান করে দাঁড়াতে হবে। কারণ এদেশের স্বাধিকার, স্বাধীনতা এবং সংবিধান রক্ষা করা একমাত্র অতন্দ্র প্রহরী হল আওয়ামী লীগ। ধর্মের লেবাস পরে আমাদের হাজার বছরের সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে যারা এই রাষ্ট্রশাসন করছে, তারা আসলে বাঙালির আত্মাকেই হত্যা করতে চায়। বাঙালি জাতীয়তাবাদের এই মহাসংকটে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যুবলীগই হবে রাজপথের লড়াকু প্রহরী।

 

২৬ জুন শুক্রবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবাষিকী উপলক্ষ্যে যুবলীগ আয়োজিত অনলাইন আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। বক্তব্য রাখেন- যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

শেখ পরশ বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে একটা সদ্য স্বাধীন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে বিজয়ের মাত্র ১০ মাসের মাসের মধ্যে একটা চমৎকার বিশ্বমানের জনমুখী সংবিধান উপহার দেওয়া। আওয়ামী লীগই ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ছয় দফা আন্দোলন এবং পরিশেষে ৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে। এজন্যই আওয়ামী লীগের প্রতি এত ঈর্ষা অন্যান্য সকল সংগঠনের। আওয়ামী লীগই একমাত্র সংগঠন যে সবসময় বাঙালি জাতীয়তাবাদকে প্রধান আদর্শ হিসেবে ধারণ করেছে। ৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাঙালির অসাম্প্রদায়িকতার যত মহোৎসব সবকিছুর মূল চালিকাশক্তি আওয়ামী লীগ।

যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ পুনরুদ্ধারো আওয়ামী লীগের অবদান অনস্বীকার্য, বলে শেষ করা যায় না। বিশেষ করে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং পরবর্তী সময় গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় ধারাবাহিকতা রক্ষায় আওয়ামী লীগের অবদান এবং ভূমিকা সর্বস্বীকৃত। আওয়ামী লীগের যাত্রা শুরু হয়েছিল বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আপসহীন কাণ্ডারী হিসেবে এবং বাঙালির স্বার্থের প্রকৃত প্রতিনিধি হিসেবে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইতিহাস এদেশের মানুষের অধিকার আদায় এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস। বাঙালিদের উপর পশ্চিমা পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠীর শাসন, শোষণ, আঞ্চলিক বৈষম্য ও জাতি নিপীড়ন থেকে রক্ষা পাওয়ার সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ জন্ম নিয়েছিল বলে আমরা পেয়েছি লাল-সবুজের পতাকা, পেয়েছি একটি মানচিত্র, পেয়েছি জাতীয় সঙ্গীত এবং একটি সংবিধান।

তিনি বলেন,  জননেত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আর্থসামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি মানবাধিকার রক্ষা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায়ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দীর্ঘদিনের দাবি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার, যা মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় একটা অসাধারণ মাইলফলক। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আওয়ামী লীগ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল এবং জাতিকে কলঙ্কমুক্তও করেছিল।

শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন,  অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যেকোনো সমাজের গণতান্ত্রিক সংহতি এবং স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। কিন্তু বিশেষ উদ্বেগের বিষয় বাংলাদেশের বর্তমান শাসন ব্যবস্থা গণতন্ত্রের জন্য একটা বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভিন্ন মতাদর্শের নেতাকর্মীদের উপর নিপীড়ন, জেলখানায় মৃত্যুর ঘটনা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে ধরা পড়েছে। আপনারা দেখেছেন গতকালই ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দদের উপর নির- জেলখানায় নির্যাতনের ব্যাপারে এবং নির- নিপীড়নের ব্যাপারে। সে ব্যাপারে তদন্ত করতে তারা আসতে চেয়েছিল বাংলাদেশে কিন্তু ইউনূস সরকার তাদেরকে ভিসা দেয় নাই। বাংলাদেশের কারাগারগুলো যেন আজ, আজকে জালিমের হাতে সাজানো একটা মৃত্যু কুপ। ফরিদপুরের ছাত্রলীগ নেতা প্রান্তের পর এবার চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক, সাবেক ছাত্রনেতা নুরুল আলম কারান্তরীণ অবস্থায় নির্মম হত্যার শিকার।

তিনি আরও বলেন,  আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সামনে রেখে গত পরশু মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রামে কারাগারে পাঠানোর পর কালকে সকালে চট্টগ্রাম কারাগারে মৃত্যু নুরুল। নিখোঁজ হওয়ার চারদিন পর তুরাগ থানায় ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের দুইজন কর্মী আরিফ এবং সুমনের মরদেহ কালকে তুরাগ নদী থেকে উদ্ধার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। এভাবে আমাদের প্রায় ৮২ জন, এখন পর্যন্ত জানামতে, ৮২ জনকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু এ ব্যাপারে আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের একটা বিশ্বাস আছে যে কালচক্র কিন্তু ঘুরবেই। আর কালচক্র চিরদিন একদিকে ঘোরে না। আর যারা ক্ষমতার বলয়েই নিরাপদ, কাল তাদেরকেও জবাবদিহি করতে হতে পারে এবং হবে। সময়ের কাছে কোনো অন্যায় চিরস্থায়ী নয়। ইতিহাসের কাছে কোনো হিসাব হারিয়ে যায় না। তাই এটুকু বলব, নুরুল আলম, সুমন এবং আরিফদের মৃত্যুর বিচারের দাবি আজকের নয়, এটি আগামী দিনেরও দাবি। বিচার হবেই। রাষ্ট্রীয় নীল নকশার এসব বিচার বহির্ভূত জেল হত্যার সাথে যারাই জড়িত, তাদেরই বাংলার মাটিতে বিচার হবে।

দমন নিপীড়নের প্রতিবাদ জানিয়ে পরশ বলেন, মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও কত কয়েক মাসে আওয়ামী লীগের শত শত নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সহযোগী সংগঠনগুলির ভাইদের উপর রাষ্ট্রীয় এবং দলীয় বাহিনী লেলিয়ে দিয়েছে বিএনপি। রাজনৈতিক সভাসমাবেশের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে আমাদের। বিরোধী মতাদর্শের নেতাকর্মীদের উপর নিপীড়ন এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিবাদে দেশব্যাপী শত শত মিছিল শাসকগোষ্ঠীর গদি নাড়িয়ে দিয়েছে। আওয়ামী লীগের সম্প্রতি বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রমাণ করে যে জনগণ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং দেশে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার পুনরুদ্ধারের সমর্থন দিয়েছে।

তিনি বলেন, ভোটারবিহীন মুছলেকা তারেক রহমান সরকারের ভাষণ অনুযায়ী আওয়ামী লীগের মতো তথাকথিত অলমোস্ট নন-এক্সিসটেন্ট একটা সংগঠন ঠেকাতে যখন আর্মি-বিজিবি নামাতে হয়, তখন বোঝা যায় যে এরা কী পরিমাণ ভীতু। যেন ভূতের ভয়ে বন্দুক হাতে প্যারেড করার মতো আয়োজন ১৬ কলা। কী প্রহসনের গণতন্ত্র এদের! বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রাস্ফীতি, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি এবং স্বাস্থ্যখাতের ধস নামা বিভিন্ন সামাজিক চ্যালেঞ্জে জর্জরিত। একটি স্থিতিশীল এবং জনমুখী শাসন ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা এখন চরমভাবে পরিলক্ষিত এবং উপলব্ধি করছে দেশের মানুষ। হামের মতো রোগে শিশুর মৃত্যু ঘটনা এবং স্বাস্থ্য সেবার অপ্রতুলতা এবং দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ চিকিৎসার ব্যয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে। চারিদিকে মানুষ বঙ্গবন্ধু কন্যা, রাষ্ট্রনায়ক, জননেত্রী শেখ হাসিনার অপেক্ষায়।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ প্রবল প্রতাপে জেগেছে গণতন্ত্র পুনরুদ্- পুনরুদ্ধারে। সরকারকে অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে বাধ্য করবে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়, আজ আওয়ামী লীগের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসই এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট তরুণ প্রজন্মকে নির্দেশিত করে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ সংগ্রামের- বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে শামিল হতে। কারণ বঙ্গবন্ধু কন্যাই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনরুদ্ধারের একমাত্র ভরসা।

দেশপক্ষ/এএ

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন