
# প্রতিবছর ৩০ হাজার শিক্ষার্থী নার্সিং পাস করলেও চাকরি পান অল্প সংখ্যক
# দেশে প্রায় ৮২ শতাংশ নার্স সংকট, দাবি বিএনএ’র
# কম বেতন, নানা সংকট ও কাজের চাপে বাড়ছে বিদেশমুখিতা
# মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, কানাডা ও জাপানে নার্সের চাহিদা বাড়ছে
# দক্ষ নার্সের অভাবে স্বাস্থ্যসেবায় ঝুঁকি বাড়ছে
বেতন কম-কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং উন্নত কর্মপরিবেশের অভাবে বাংলাদেশে হতাশায় নিমজ্জিত নার্সরা। ব্যক্তিগত-পারিবারিক ও পেশাগত চাপের কারণে অনেকের মধ্যে বিষণ্নতা, ক্লান্তিবোধ এবং কাজের প্রতি অনিহা তৈরি হচ্ছে।এতে নার্সদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলছে। শুধু তাই নয়, স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম ভরসা নার্সদের মধ্যে নানা সংকট, বৈষম্য ও কম বেতনে বাড়ছে অসন্তোষ। ইতোমধ্যে অনেকে হতাশায় দেশ ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন বিদেশে। এতে দক্ষ-ও অভিজ্ঞ সেবক হিসেবে পরিচিত নার্স হারাচ্ছে বাংলাদেশ।
সংশ্লিষ্ট্ররা বলছেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ নার্সিং সেবা। একজন রোগীর চিকিৎসা ও সেবার বড় অংশই নির্ভর করে দক্ষ নার্সের ওপর। অথচ দেশে এখনো প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ নার্স তৈরি হচ্ছে না। সরকারি ও বেসরকারি নার্সিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসম্মত প্রশিক্ষণের অভাব, শিক্ষক সংকট, রাজনৈতিক প্রভাব, বদলি বাণিজ্য ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনায় পুরো খাতই যেন এক অদৃশ্য সংকটে পড়েছে। তবে আগের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়েছে নার্সিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-পদমর্যাদা ও নার্সের সংখ্যা। কিন্তু বাড়েনি সেবার মান।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী নার্সের যেমন অভাব রয়েছে, তেমনি অভাব রয়েছে দক্ষ নার্সেরও। একদিকে এই সংকট, অন্যদিকে রয়েছে নানা অব্যবস্থাপনা। রয়েছে রোগীদের সঙ্গে নার্সদের আচরণ নিয়েও বিস্তর অভিযোগ। তবে প্রতিদিনই মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করা রোগীদের পাশে দাঁড়াতে হতো তাকে। তবে কয়েক মাস আগে উন্নত ও নিরাপদ জীবনের আশায় দেশ ছেড়ে পাড়ি জমান সৌদি আরবে। বর্তমানে দেশটির একটি শীর্ষ হাসপাতালে কর্মরত আছেন তিনি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাসপাতালগুলোতে নার্স থাকলেও অনেকের নেই পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ কিংবা রোগী ব্যবস্থাপনার আধুনিক অভিজ্ঞতা। একটা অংশ আবার রাজনৈতিক সুবিধা নিয়ে কর্মস্থলে ফাঁকি দিয়ে থাকেন। নিজে কাজ না করে আয়া বুয়া ওয়ার্ড বয় দিয়েও কেউ কেউ কাজ করান। আলাদা অধিদপ্তর হওয়ায় চিকিৎসক নার্সদের মধ্যেও নেই সমন্বয়। ফলে চিকিৎসাসেবার মানও প্রশ্নের মুখে পড়ছে। রোগীদের বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার কারণগুলোর মধ্যে একটি তাদের প্রতি কিছু নার্সের আন্তরিকতার ঘাটতি থাকা। দেশে ২০১০-২০ সাল এই ১০ বছরে নার্সিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৩৫৬ শতাংশ বেড়েছে। ২০১০ সালে নার্সিং কলেজ ও ইনস্টিটিউট ছিল মোট ৮৭টি। নার্সিং কলেজ ছিল ৩০টি, নার্সিং ইনস্টিটিউট ৫৭টি। ২০ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯৭টিতে। নার্সিং কলেজ ১৭৪টি এবং নার্সিং ইনস্টিটিউট ২২৩টি। ২০১০ থেকে ২৪ সাল পর্যন্ত এই সংখ্যা বেড়েছে ৪২৪ শতাংশ। জানা গেছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শিউলি আক্তার (ছদ্মনাম)। কাজ করতেন হাসপাতালটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিভাগে। প্রতিদিনই মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করা রোগীদের পাশে দাঁড়াতে হতো তাকে। তবে কয়েক মাস আগে উন্নত ও নিরাপদ জীবনের আশায় দেশ ছেড়ে পাড়ি জমান সৌদি আরবে। বর্তমানে দেশটির একটি শীর্ষ হাসপাতালে কর্মরত আছেন তিনি।
শিউলি আক্তার জানান, দেশ ছেড়ে যাবেন কিনা তা নিয়ে অনেক দ্বিধায় ছিলেন। শেষ পর্যন্ত ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও ভালো জীবনের কথা ভেবে বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শিউলি বলেন,দেশে থাকলে অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য সবসময় চিন্তা করতে হতো। ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারব কি না, তা ভাবতে হতো। বিদেশ থেকে অফার আসায় সার্বিক চিন্তা করে সৌদি এসেছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যে বেতন পেতাম, এখানে তার চার থেকে পাঁচগুণ বেশি বেতন পাই। এখানে কাজের পরিবেশও অনেক সুন্দর। কোনো মানসিক চাপ কাজ করে না। আত্মীয়-স্বজন ও নিজের চাহিদা পূরণ করতে পারছি। সময়টা ভালোই কাটছে। তিনি বলেন, দেশে নার্সদের সুযোগ-সুবিধা সীমিত, কাজের চাপও বেশি। নানা সংকটে কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বিপরীতে বিদেশে প্রচুর সুযোগ-সুবিধা দেওয়ায় অনেক দক্ষ নার্স বিদেশে চলে যাচ্ছেন। শুধু শিউলিই নয়,তারমতো আরও পাঁচজন নার্স কাছাকাছি সময়ে দেশ ছেড়েছেন বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএনএ) সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে ৮২ শতাংশ নার্স ঘাটতি রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের (বিএনএমসি) নিবন্ধিত নার্সের সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ ১৭ হাজার। এর মধ্যে সরকারি চাকরি করেন প্রায় সাড়ে ৪৭ হাজার নার্স, বাকিদের অনেকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। আর বিদেশে কর্মরত আছেন ১৫ হাজার নার্স। তাদেরমতে, নিবন্ধিত নার্সদের মধ্যে ৪০ হাজারের বেশি বেকার। প্রতিবছর প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী নার্সিং পাস করলেও সরকারি চাকরি পান প্রায় এক হাজার। বেসরকারি খাতে চাকরি পান দেড় থেকে দুই হাজার। অনেকে বিদেশে পাড়ি জমান, আর বড় একটি অংশ থেকে যান বেকার।
সরকারি হাসপাতালে গ্রেড অনুযায়ী বেতন-ভাতা থাকলেও বেসরকারি হাসপাতালে নার্সদের বেতন শুরু হয় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা থেকে। অনেক ক্ষেত্রে এর চেয়েও কম বেতন দেওয়া হয়। পাশাপাশি নেই নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো, পদ-পদবিরও সুস্পষ্ট ব্যবস্থা। এতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা নার্সরা ভোগেন হতাশায়। তবে নার্সিং বিশেষজ্ঞরা জানান, চিকিৎসকরা রোগীকে শুধু ব্যবস্থাপত্র দিয়ে চলে যান। বাকি সিংহভাগ সময় নার্সের তত্ত্বাবধানেই থাকতে হয় রোগীদের। ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী তারা চিকিৎসা ও সেবা দিয়ে রোগীকে সুস্থ করে তোলেন। তাই নার্সদের পদোন্নতিসহ সুযোগ-সুবিধা দিতে অবহেলা করার সুযোগ নেই।
নার্সদের অভিযোগ, উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নিচের (ব্যতিক্রম ইউনিয়ন উপকেন্দ্র) স্তরে তাদের জন্য পর্যাপ্ত পদ নেই। আবার প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পদও সৃষ্টি করা হয় না। ফলে অনেক নার্সকে দীর্ঘ সময় পদোন্নতি ছাড়া চাকরি করতে হয়। নার্সদের চেয়ে কম ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ ও একাডেমিক যোগ্যতা থাকার পরও সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সাকমো) রোগীর চিকিৎসা দিতে পারেন এবং ব্যবস্থাপত্রে ওষুধ লিখতে পারেন; কিন্তু নার্সরা তা পারেন না। বাংলাদেশে একজন চিকিৎসকের বিপরীতে তিনজন নার্স থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে একজন চিকিৎসকের বিপরীতে একজনেরও কম নার্স রয়েছে।
জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের সিনিয়র স্টাফ নার্স লাভলী আক্তার বলেন, হাসপাতালে রোগীর সবচেয়ে কাছে থাকেন নার্সরা। হাসপাতালে রোগীকে রিসিভ করার পর থেকে সেবার সবকিছুই করতে হয় নার্সদের। রোগীর সার্বক্ষণিক সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন নার্সরা। তাদের ছোঁয়ায় হাসপাতালের রোগীরা সুস্থ হয়ে উঠেন। রোগীকে সুস্থ করে তুলতে নার্স থাকেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়। সংকট কিংবা ভয়াবহ মহামারী সবসময়ই রোগীর কাছে থাকতে হয় নার্সকে। তাই নার্সিং খাতকে স্বাস্থ্যসেবায় অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. শরিফুল ইসলাম বলেন, নানা সমস্যায় জর্জরিত নার্সিং খাত। নার্সদের কোনো পদোন্নতি নেই। একই গ্রেডে সারাজীবন চাকরি করতে হয়। গুটিকয়েক পদোন্নতি পান। নার্সদের বেতন কাঠানো নেই। বছরের পর বছর ধরে পদ সৃজন করা হয় না। নার্সরা নানা সংকটে ভুগছেন। কাজে চাপও বেশি। মানসিকভাবে নার্সরা ক্লান্ত এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের হাসপাতালে রোগীদের চাপ বেশি। নার্সও নিয়োগ হয় কম। সরকারি হাসপাতালে বেড রয়েছে ৭৫ হাজার, তবে এখানেও নার্সের ঘাটতি। ব্যাপক নার্স বেকার বসে আছে, তাদের কোনো চাকরি নেই। প্রতিবছর নার্সদের বেকারত্ব বাড়ছে। সরকারি নার্সিং প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বেসরকারি নার্সিং প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেশি। আর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসা করে। নার্স তৈরি করে কোনো খোঁজ নেই; বরং বেকার বসে আছে। আর যার সক্ষমতা আছে, তিনি বিদেশ চলে যান। তিনি আরও বলেন, নার্সদের সংখ্যা বাড়ানো, বেতন বাড়ানো, তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় বসানো-এসব সরকারের দায়িত্ব। ক্লান্ত, অসন্তুষ্ট নার্সের কাছ থেকে মানসম্পন্ন সেবা আশা করা ঠিক না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে নার্সিং শিক্ষায় বড় ধরনের দুর্বলতা রয়েছে। নার্সদের দক্ষতায় ব্যাপক ঘাটতি থাকলেও তা উন্নয়নে যথাযথ নজর নেই সরকারের। হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ, ক্লিনিক্যাল সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কিংবা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতায় পিছিয়ে আছেন অনেক নার্স। তাদের ভাষ্য, বর্তমানে দেশে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক নার্সিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু মান নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান ‘সার্টিফিকেট উৎপাদনের কারখানায়’ পরিণত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, দক্ষ নার্সের অভাব সরাসরি রোগীর জীবনের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। এতে ওষুধ প্রয়োগে ভুল, সংক্রমণ বৃদ্ধি এবং রোগীর অবস্থা অবনতির ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে আইসিইউ ও জরুরি সেবায় এর প্রভাব গুরুতর। নার্সিং খাতকে সম্ভাবনাময়ী করতে হলে সরকারকে ব্যাপক পরিসরে পরিকল্পনা করতে হবে এবং তা বাস্তবায়ন করতে হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশে একদিকে নার্সের ঘাটতি ও নানা সংকট রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে বড় সম্ভাবনাও। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, কানাডা ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশে নার্সদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো গেলে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং বাড়বে রেমিট্যান্স প্রবাহ। তবে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও পরিকল্পনার অভাবে সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে চাকরির জন্য নার্সদের ভাষাগত ও পেশাগত দক্ষতা প্রয়োজন। কিন্তু দেশে সেই প্রশিক্ষণের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই। ফলে অনেক নার্স বিদেশে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলেও পিছিয়ে পড়ছেন। কেউ কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে দক্ষ হয়ে বিদেশে যাচ্ছেন, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
তবে সোসাইটি ফর নার্সেস সেফটি অ্যান্ড রাইটসের মহাসচিব ও নার্সেস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ন্যাব) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাব্বির মাহমুদ তিহান বলেন, নার্সদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে বাজেট বৃদ্ধি এবং কার্যকর সমাধানের ওপর জোর দিতে হবে। কারণ বাংলাদেশে অত্যাধিক নার্স সংকটে অতিরিক্ত রোগীর সেবা দিতে গিয়ে নার্সরাই আক্রান্ত হচ্ছেন শারীরিক ও মানসিক রোগে। তাছাড়া অপ্রতুল বেতন ও সামাজিক মর্যাদা নিয়ে নার্সদের মধ্েয চরম অসন্তোষ বিদ্যমান। এ কারণে অনেকে দেশ ছেড়ে বিদেশে যাচ্ছেন। রোগীরা উপযুক্ত সেবা না পাওয়ায় বিদেশমুখী বেশি হচ্ছেন নার্সরা।
দেশপক্ষ/ এমএইচ








