ঢাকা, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ৪:০৬ পূর্বাহ্ন

গফরগাঁওয়ে বালু মহাল দখল নিয়ে ছাত্রদল-এলাকাবাসী সংঘর্ষ

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের বালু মহাল দখলকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উত্তেজিত জনতা ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বহরে থাকা অন্তত ১০-১২টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। এছাড়া একটি নৌকা ও বেশ কিছু দোকানপাট ভাঙচুর করে ।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার সরকারি কলেজ ঘাট সংলগ্ন চরআলগী মৌজা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি কলেজ সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদের জেগে ওঠা চরের জমি চরআলগী মৌজাবাসীদের। দীর্ঘদিন ধরে ইজারার মাধ্যমে এখান থেকে বালু উত্তোলন করা হলেও জমির মালিকরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত আসছিলেন। বুধবার (২৫ মার্চ) উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মুক্তার হোসেন তার অনুসারীদের নিয়ে ওই বালুর ঘাট দখল করতে গেলে স্থানীয়দের বাধার মুখে ফিরে আসেন।

এরই জেরে বৃহস্পতিবার দুপুরে মুক্তার হোসেনের নেতৃত্বে শতাধিক অনুসারী মোটরসাইকেল বহর নিয়ে পুনরায় ঘাট দখল করতে যান। তারা স্থানীয় সাত্তার, বাবুল ও সাদেকের জমিতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করলে মালিকপক্ষ বাধা দেয়। এ সময় ছাত্রদল কর্মীরা ওয়াইজ উদ্দিন ওরফে পাবলিক নামে এক নৌকার মাঝিকে পিটিয়ে আহত করে এবং তার নৌকায় আগুন ধরিয়ে দেয়।

মাঝিকে মারধর ও নৌকায় আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়লে চর এলাকার গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ধাওয়া করে। গ্রামবাসীর তোপের মুখে মুক্তার হোসেন ও তার লোকজন মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যান। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা সরকারি কলেজের সামনের সড়কে থাকা ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ১০ থেকে ১২টি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় ওই এলাকার বেশ কিছু দোকানপাটও ভাঙচুর করা হয়।

উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি আবদুল কাইয়ুম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মুক্তার হোসেন গতকালও দখলচেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। আজ আবারও দলবল নিয়ে এসে মাঝিকে মারধর ও নৌকায় আগুন দিলে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

জেলা যুবদল নেতা আবদুল আজিজ সাদেক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার কথা স্বীকার করলেও সংঘর্ষে লিপ্ত পক্ষগুলোর পরিচয় নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। অভিযুক্ত উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মুক্তার হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে কারা দখল করতে এসেছিল তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এনএম আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, বালু ঘাটটি বিআইডব্লিউটিএ-এর অধীনে। দুই পক্ষের উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

দেশপক্ষ/ এমএইচ

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন