ঢাকা, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ন

শেখ পরশ: মেধা ও মানবিকতায় তারুণ্যের নতুন দিশারী

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তরুণ নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল ও পরিশীলিত নাম শেখ ফজলে শামস পরশ। বিশেষ করে যুবলীগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি যেভাবে তারুণ্যের শক্তিকে ইতিবাচক ও গঠনমূলক পথে পরিচালিত করছেন, তা আজ রাজনীতির এক আলোচিত বিষয়। জুলাই মাসের শুরুতেই ফিরে আসে তাঁর জন্মদিনের মাহেন্দ্রক্ষণ। রাজনীতির এই নিভৃতচারী ও মেধাবী ব্যক্তিত্বের জন্মদিনে তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ও আদর্শের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা।

​১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের সেই কালরাত্রিতে ঘাতকদের নির্মমতায় শেখ পরশ হারিয়েছিলেন তাঁর বাবা—যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ শেখ ফজলুল হক মণি এবং মা বেগম আরজু মণি। সেই বিভীষিকাময় সময়ে তিনি ও তাঁর ভাই শেখ ফজলে নূর তাপস অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেলেও, সেই ছোট বয়সেই পিতৃ-মাতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত হওয়ার বেদনার পাহাড় বয়ে বড় হয়েছেন। তবে শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন মেধা ও মননশীলতার এক অনন্য উচ্চতায়।

​১৯৬৯ সালের ২ জুলাই জন্মগ্রহণ করা শেখ পরশ শিক্ষাজীবনে অত্যন্ত মেধাবী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি বিদেশে পাড়ি জমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। দীর্ঘ সময় তিনি দেশের স্বনামধন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার মতো মহান পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। শিক্ষকতা জীবনের সেই ধৈর্য, বিশ্লেষণ ক্ষমতা এবং জ্ঞানচর্চার অভ্যাসই আজ তাঁর রাজনৈতিক দর্শনে প্রতিফলিত হয়।

​২০১৯ সালের ২৩ নভেম্বর যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেসের মাধ্যমে তিনি সংগঠনটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাজনীতিতে এসে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, তিনি তাঁর বাবারই যোগ্য উত্তরসূরি। রাজনীতির জটিল সমীকরণকে তিনি যুক্তিবোধ ও দেশপ্রেমের আলোকে দেখার চেষ্টা করেন। তাঁর মূল লক্ষ্যই ছিল যুবলীগকে একটি সুশৃঙ্খল এবং ‘মানবিক যুবলীগ’ হিসেবে গড়ে তোলা।

​বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধুর রক্ত ও আদর্শের যোগ্য উত্তরসুরি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি এখন যুবলীগের রাজনীতির প্রধানতম অগ্রাধিকার। ৫ আগস্ট পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শেখ পরশের নেতৃত্বে যুবলীগ আজ রাজপথে সবচেয়ে সোচ্চার ও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছে। তাঁর সুদৃঢ় নির্দেশনায় সংগঠনের প্রতিটি স্তরের নেতা-কর্মীরা শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। শেখ পরশ মনে করেন, দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব অপরিহার্য। তাই তাঁর প্রত্যাবর্তনের পথ সুগম করতে শেখ পরশ প্রতিনিয়ত নেতা-কর্মীদের মাঠে সক্রিয় থাকার দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। সংগঠনটিকে সুসংগঠিত রেখে মিছিল ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি যে সাহসিকতা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন, তা নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক নতুন জাগরণ সৃষ্টি করেছে।

​একজন আধুনিক রাজনীতিক হিসেবে তিনি বিশ্বাস করেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় ছাড়া রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তাঁর নেতৃত্বগুণের কারণেই যুবলীগ আজ অনেক বেশি পরিপক্ক ও মানবিক এক সংগঠনে পরিণত হয়েছে।

​আজকের এই বিশেষ দিনে আমরা কামনা করি, তিনি দীর্ঘজীবী হোন। তাঁর মেধা, প্রজ্ঞা ও সততা দিয়ে তিনি এ দেশের মানুষের জন্য, বিশেষ করে আগামীর প্রজন্মের জন্য আরও বড় কিছু করার সুযোগ পান—এটাই প্রত্যাশা।
​শুভ জন্মদিন, শেখ পরশ। আপনার পথচলা আরও সাফল্যমণ্ডিত হোক।

​(লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য)

দেশপক্ষ/ এমএইচ

 

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ